সঙ্গদীপ ষান্মাসিক পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যাটি প্রকাশ করা হল। প্রকাশের সময়কাল -১৪ই মে ২০২৪, বিকেল -৫:৫৫ ।
তুমি আমার মন ছূঁয়ে দিয়েছ
মানে হৃদয় স্পর্শ করেছ।
তার মানে এই নয় তুমি আমার
সব অধিকার লাভ করেছ।
মাথা হাত পা চোখ মুখ কানের
এবং আমার শরীর আচ্ছাদনের ভিতরের
অঙ্গের অধিকার পেয়েছ।
তুমি দারোয়ান
মালিকের ভিতরের ঘর তোমার
রহস্যই রয়ে গেছে।
কতটা বিশ্বাস করলে মানুষকে
সব দেওয়া যায়, মন ছোঁয়ার পর
তার অনুশীলনের প্রয়োজন রয়েছে।
তা হল নিস্কাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
এর ক্ষমতা অসাধারণ।
সব কিছুকে পাওয়ার আসল চাবিকাঠি।
এক চাবিকাঠিতেই সফল মানব জীবন।
দূরত্ব অনেক খানি
কাজল আচার্য
খেয়া দুটো চলে গেছে
শব্দ সীমানা ছাড়িয়েবা
দবাকি পরিজন আকাশের খোঁজে।
মৃত্তিকার গন্ধ নিয়ে
রোগগ্রস্ত গাছ আমি এক
জীর্ণ পাতার স্তুপে
কলঙ্ক কাহিনি ঢাকি।
বাক্স সে খোলেনি অটুট বিশ্বাসে বহুদিন
মলাটের বৈচিত্র্যে বিপুল সংগ্রহ
দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ক্রমে গ্রাস করেছে সময়
ফেরিওয়ালা ফেরেনি ঘাটে
লাল আলো জ্বলা নেভা দেখে বোঝা যায়
স্রোত এগিয়ে গেছে...
******
পরিযায়ী নৌকা
উৎপল দাস
সূর্যদেব
হারাধন ভট্টাচার্য্য।
হে দেব দিবাকর, মহাতেজ ধর,ভাতিছ গগনে,
বিষ্ময়ে বিরাজিত,এ মহাজগত,ঐ মহাশূন্যে।
প্রভাতে লালিমা, প্রশান্ত অরুনিমা ব্যপ্ত বিশ্বে,
চরাচর জাগে, প্রভাতী রাগে,জাগে কলহাস্যে।
তুমি জগত পিতা, তমস ত্রাতা, জাগে দ্যূলোক,
অমৃত আলোকে,পরম পুলকে,বাঁচে জীবলোক।
আলো রং ছেনে, ফুল বনে,রঙের মাধুরী জাগে,
রামধনু হাসে, দূর আকাশে, জীবনের অনুরাগে।
ঘোরে গ্রহ-গ্রহানু,অনু-পরমানু,ভাঙে আর গড়ে,
অগ্নি গোলা, অবিরাম লীলা খেলা,সূর্য গহ্বরে।
পৃথিবীর ঋতুরঙ্গ,তোমারই অনুষঙ্গ, মহিমান্বিত,
সৃষ্টির সঙ্গীত বাজে,ধরা মাঝে,শান্তি বিরাজিত।
আলো মাখা দিন,স্বপ্ন রঙিন তোমারই করুণায় ,
বিকশিত প্রকৃতি, প্রাণের প্রনতি, ওগো প্রভাময়।।
******
ঠিকানা: মানকুন্ডু পালপাড়া লেন, হুগলী
পলাশ পাল
একটা সরলরেখার ওপরে
প্রতিদিনই ভাঙতে থাকি
নিজের জ্যামিতিক জীবনটাকে
তোমার চোখের জলে ভেজা
একটু একটু করে বড় হওয়া
সাদা পাতায় কঠিন লড়াই...
কথা বদলালে মুখোশ বদলে যায়
আঁধারের নৈঃশব্দ্য..
কবি পরিচিতিঃ কলমে-প্রসেনজিৎ দলুই, গ্রাম-বেলুটি, পোঃ-বেরেন্ডা,থানা-আউসগ্রাম,জেলা-পূর্ব বর্ধমান
বিরহ-বেদনা
কবি পরিচিতিঃ নবী হোসেন নবীন
গ্রাম-বাঁশিল,ডাকঘর-কাঠালী
উপজেলা-ভালুকা,ময়মনসিংহ
তোমার চোখের তারায়আমি তোমার কবিতার পাঠক নয় চিত্রকল্প হতে চাই
মনের গহীনে নয় চোখের তারায় খুঁজি ঠাঁই।
তোমার চোখের আড়াল হয়ে
মনের আড়ালে হারাতে চাই না প্রিয়া
চোখের জলে যেন সিক্ত না হয় আমার রিক্ত হিয়া।
এসো না প্রিয়া চোখে চোখ রেখে
চোখের তারায় হারিয়ে যাই।
চোখ খোলে যেন ফের চোখের তারায়
তোমাকেই দেখতে পাই।
শূন্য যদি থাকে থাক কবিতার খাতা
পলকে পূর্ণ হউক দুচোখের পাতা।
চোখের তারায় যদি না হাসে তারা
রাতের আকাশ দেখে কে হয় আত্মতারা?
******
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
চলো এখন আমরা সবাই গোপনে আত্মহত্যা করি ।সম্পর্কগুলো একসময় ভালবাসার মোড়কে পাশ ফিরে শোবার কথা ভেবেছিল,ভেবেছিল মানুষকে পশু বানানো বাঁ হাতের খেল,আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণ সবই বাসনালিপ্ত. ..
ট্রাডিশনালিটির রি মেকিং. ..ফলত: পাতার পোশাকে
আর আধখাওয়া আপেলে একটু স্বস্তির শ্বাস. ..
ফেলবার জায়গা খুঁজছিল ।
আর এদিকে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে রূপোর কাঠি ছুঁইয়ে অধুনান্তিকতায় আপডেট চলছিল ,জোরকদমে তবু শেষ রক্ষা হলোনা ।
রূপকথার গল্প গুলো চিচিং ফাঁক ...
মস্ত বড়ো ভুল হয়ে গেছে এখন আর উ পায়ে নেই ।
আবরণ অথবা আভরণ কোনো কিছুতেই তাদের বশ করানো যাবে না ....
ভাত ছড়ালে কাক হাজির এসব বস্তাপচা বাক্যে ভবি ভুলবার ন য়,স্থলপথে জলপথে সর্বত্র সাজানো ঝুমঝুমি, সোনালি ত্রিভুজ. ..
সার্কিট চেঞ্জ করতে বেশি সময়ে লাগে না
তবু পাঁচমুড়া ডোকরা বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির ঘোড়া
ফ্ল্যাটবাড়ির খোপে খোপে কী বিচিত্র আয়নায় ফুটে উঠছে, ডিনার টেবিলে বিসমিল্লাহর পাগলা সানাই ।
অপেক্ষা শেষ হয়ে গেছে বলে যারা গৃহত্যাগ
করেছিল একদিন হেলেঞ্চা আর কচুরিপানার সঙ্গে
তারাও ফিরছে আজ দলে দলে ...
রতিসুখসারে
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
সবকিছু মূল্যহীন করে এমন এক নতুন জিনিস উপহার দিতে হবে যাতে প্রেমিকার দুচোখ জলে ভরে যায় ,অবশ্যই তা আনন্দাশ্রু অনুমোদনের অপেক্ষা রাখে না।যে সাদা পায়রা সে চিঠি পৌঁছে দেবে ,সে কি জানে প্রেম কাকে বলে ?দিনে দিনে তিল তিল করে জমানো যে মুক্তো কার সামনে উন্মুক্ত হবে তাতো জানার কথা না,ইচ্ছামৃত্যুকে বরণ করাও যা ভালবাসাও ঠিক তাই ।
যে জীবনে রাজভোগ খেল না,সে কি করে বুঝবে
মিষ্টি কতটা ,পূর্ণিমা হবার কামনা বাসনা চাঁদের চিরকালীন অমাবস্যা থেকেই তা বোঝা যায়
বোঝা এক জিনিস আর ভাবা আরেক জিনিস. ..
কিন্তু হয়ে গেলে জ্ঞানী ও নিমেষে মূর্খ হয়ে যায়
পৃথিবীর এই বিপুল আয়োজন সংবিধান
বহির্ভূত বড়ো বিচিত্র এই ভালবাসা, সৃষ্টির কলাকৈবল্য মুখে বললে তার গভীরতা কমে যায়
প্রেমিক প্রেমিকা তাই উভয়েই খুনী যেদিন স্পর্শ করে দেহ, সেদিন ধড়ে আর শরীর থাকে না ,হাতে হাত নেই ...আঙুলে আঙুল নেই, আলিঙ্গনে নেই সে গন্ধরাজ
যাকে তার তিল তিল করে লালন পালন করেছিল সহস্র বছর কত বিনিদ্র রজনী. ..একটি ঢেকিশাল
তুলসীমঞ্চের পাশে,সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি সবই ছিল রতিসুখসারে রহস্যেরঙিন. ...
কবি পরিচিতিঃমলয় সরকার- পেশায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক, রসায়নে স্নাতকোত্তর ( আই আই টি খড়্গপুর), লেখালিখি ( গল্প, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি)বহুদিন দেশ বিদেশে বহু পত্রপত্রিকায়, জ্ঞান ও বিজ্ঞান, সুখবর দৈনিক,নিয়মিত লেখক জ্বলদর্চি, ভাষা সংসদের অনুবাদপত্রিকায় ও অন্যান্যতে, অনুবাদকর্মের জন্য ভাষা সংসদের সোনালী ঘোষাল স্মৃতি পুরষ্কার, প্রকাশিত গ্রন্থ তুর্কিনাচন, ঝরা ফুলদল, স্থায়ী নিবাস সোদপুর, উঃ ২৪ পরগণা, পঃবঃ, নেশা দেশেবিদেশে ভ্রমণ, উদ্যানচর্চা, বিভিন্ন সমাজসেবার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
আমি ভাল আছি
মলয় সরকার
আমি ভাল আছি তোমার স্বপ্ন-
অঞ্জন দুচোখে লাগিয়ে চোখে
রোদে জলে কান্নায় কিংবা নীরব বনচ্ছায়ায়
পাতা ঝরা হলুদ বিকালে
কিংবা বিষন্ন সন্ধ্যায়-
আমি ভাল আছি
সবুজ মসের মত স্মৃতির আচ্ছাদনে,
যন্ত্রের নিষ্পিষ্ট চক্রের আবর্তনে
দূর কোন জাঙ্গালের ধারে
সংসার মন্থনে,
আমি ভাল আছি
মেঘাচ্ছন্ন বিকেলের চাদর জড়িয়ে
ক্যাকটাসের দুরন্ত কাঁটায়,
আর স্বপ্নের নিভে আসা দীপের আলোতে
তবু অনন্ত ছায়ায়-
******
কবি পরিচিতিঃ আমার নাম সঞ্জয় ব্যানার্জীআমি চুঁচুড়া,ব্যারাক রোড, হুগলী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা।আমার পেশা ও নেশা কবিতা,গল্প ও উপন্যাস লেখা।অনেক নামকরা পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়।অনেক পুরষ্কারও জীবনে পেয়েছি।আমি সমৃদ্ধ ও সম্মানিত হয়েছি।বর্তমানে আমার বয়স ৫৮ বছর।
মা তো নেই
সঞ্জয় ব্যানার্জী
আমি সব শিখে নিয়েছি
তুমি আমাদের রেডি করে দেবে না
তাহলে আমি স্কুলে যাব না।
একদিন আমরা কোলকাতাতে আমাদের বাড়িতে আসি।
আভা মিস আমাদের বাড়ির সামনে,
আমার মায়ের খুব বন্ধু
দুপুরে মায়ের সাথে রোজ গল্প করে।
আমাকে নিয়ে মায়ের অনেক অভিযোগ
আভা মিস আমাকে আদর করে
ঠিক আমার মায়ের মতো।
আজ মা তো আমার নেই
কিন্তু তাতে কি ?
আভা মিস তো আমার আছে।
*****
তীর্থঙ্কর সুমিত
আমীমাংসিত হিংসা নিয়ে প্রতিদিন হেঁটে চলেছি
মাথার ওপর খোলা জানলা
সূর্যের রশ্মির সাথে পাথরের যে হৃদ্যতা
কফির কাপে লেগে থাকা পুরোনো চুমুকের ক্ষত
আজ,
বর্ষা হলে মন খুলে কাঁদা যায়
গাছেদের স্নান দেখে নিজেকে...
দারুন অনিচ্ছার রাজপথে নেমে
মেঘেদের প্রশ্ন করা যায়
শূন্য মুঠোয় একটু বৃষ্টি দেবে?
কবি পরিচিতি:অধীর কুমার রায় শিক্ষক, কবি ও লেখক। জন্ম মুর্শিদাবাদ। কবি মানুষের জন্য লেখালেখি করেন। প্রথম কবিতা "গোধূলি" ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত হয় 'দৈনালি সাহিত্য পত্রিকা'য়। এরপর তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি, প্রকাশিত হয়েছে একের পর এক কবিতা, ছোটগল্প, অনুগল্প। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বাংলা ভাষার পত্র-পত্রিকায় তিনি লেখালেখি করেন। “রঙে কলমে”, “নীরব আলো”, “সত্তা” “উৎস” প্রভৃতি প্রথম সারির পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর হাজার খানিক কবিতা। প্রথম কবিতার বই "নীল খামের চিঠি"পাঠক মহলে সাড়া ফেলেছে। তাঁর কবিতার বিষয় প্রেম, নৈতিকতা ও মানবতা। পেয়েছেন “সাহিত্য মানিক্য” এবং আরও অনেক সম্মাননা। মানুষের কল্যাণে তার কলম এগিয়ে চলেছে।
বঁধুয়া
অধীর কুমার রায়।
নদীর ওপারে বঁধুর গাঁ
চোখের কাজলে আঁকা।
হৃদয়ের ঢেউ উঠে বারবার
নদীর পথ বাঁকা।
ওপার থেকে পাখি আসে
মনে গন্ধ মিশে
পালক রেখে উড়ে যায়
মন কেমনের দেশে।
আবার কবে দেখা পাবো
কবে রথের মেলা।
প্রাণ বঁধুয়া আপন হবে
সাজাই বরণ ডালা।
*****
জীবনের অর্ধ শতক জুড়ে কবিতা ও লিটল ম্যাগাজিনের সাথে জড়িত ।
প্রথম প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ " মনজ্যোৎস্না " ।
দ্বিতীয় প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ " প্রতীতি " ।
তৃতীয় একক কাব্যগ্রন্থ " তিন লাইনের কাব্য " (হাইকু) প্রথম খন্ড ।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংকলনে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ।
উৎপলেন্দু দাস
যতটুকু পাওয়ার ঠিক ততটুকুই চেয়ো
কী করবে বাড়তি হাওয়া
নীল আকাশে মৃদু হেসে
আনন্দে ডানা মেলে মেঘ হতে দিও ।
যতটুকু দেওয়ার তার বেশি দিও
কী করবে জমিয়ে অযথা
বাতাসে ভেসে যাবে সব একদিন
একটুখানি ভেবে দেখো প্রিয় ।
লুকিও না হাসি কান্নার উদ্বেল আবেগ
সবই তো ক্ষণিকের
হে অতিথি লজ্জা কিসের
শুধু সংযত হোক কালবৈশাখী ঝড়ের মেঘ।
তীর্থঙ্কর সুমিত
গাছের নিচে সকাল থেকে দুপুর
বিড়বিড় করতে করতে কত মানুষ
পথ হেঁটে চলেছে
তপ্ত রোদ মাথা ছুঁয়ে
শরীর ছুঁয়ে
একাকি দাঁড়িয়ে
বিষণ্ণতা ঢেকেছে কত মানুষের মুখে
দীনতার ছাপ পথের ধুলোয়
ফিরে আসার গল্প শোনায় বাবা
হেঁটে যাই শূন্যের দিকে
রোদকে স্পর্শ করবো বলে।
কবি মহাদেব সরকার
বাস্তব এ মানব জীবন
মহাদেব সরকার( সভাপতি)
জীবন কি! এর ব্যাখ্যা দেওয়া নয়কো সম্ভব!
Diary টার এই ছোট্ট পাতায় এ-কে বোঝা সত্যি, খুব অসম্ভব!
এই জীবনে রয়েছে এক গাদা দুঃখ, সঙ্গে কিছু সুখের ছোঁয়া
মিলিয়ে মিশে মোরা যেন অগোছালো আগুনের ধোঁয়া!
মায়ের গর্ভ থেকে শুরু করে শশ্মান যাত্রা এর আয়ু,
চলার এই মাঝপথে বন্ধু- বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের কিছু মুগ্ধ বায়ু!
কেউ উপভোগ করে একে অর্থের বিনিময়ে,
কেউ বা আবার করে কিছু পাওয়ার অভিনয়ে!
কেউ নেই এর মজা শুধুই খুশিরও বাঁধনে,
কারো কাছে এ থাকে আবার দুঃখের বাগানে!
জানি নাকো মোরা, কখন যে যাবে চলে এই জীবন,
তবে জানি এ ভরিয়ে তুলবে এক মুহূর্তে নতুন আরেক জীবন!
জীবন, জীবন, জীবন তুমি সত্যি বড়ো অদ্ভুত!
তোমার বাস্তব বড়োই নিঠুর, তবু মন জয় কর বহুত!
তোমাকে নিয়ে চলতে চাই, তাইতো মনে গাঁথে স্বপ্ন,
বাস্তবতা ভেঙ্গে চূর্ণ করে যত মলিন সব স্বপ্ন!
জানি মোরা তোমার চিরন্তর সত্য,
হাঁসি কান্নার মাঝেই তোমার বক্তব্য।
তুমি রও ক্ষনিকের জন্য মোদের হৃদয়-প্রাণে,
তবুও তোমারই গুণগান গেয়ে যায় মোরা সুখের ও টানে!
বেশি তুমি দাওনা উপভোগ করতে তোমার এই জীবন,
অফুরন্ত চলার পথে দিচ্ছো অনেকেরেই মরন!
সাক্ষাতে যেদিন পাবো তোমার দেখা,
দয়া করে বুঝিয়ে দিও তোমার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা!
তুমি শেষ, তুমি শুরু সবই রয়েছে তোমারই হাতে,
হে জীবন, সকলকে টিকিয়ে রেখো তোমার এই
সুখ দুঃখের পথে!
********
কবি পরিচিতিঃ নাম প্রদীপ মন্ডল। ১৯৯৬ খ্রীঃ ১৩ই ডিসেম্বর মালদা জেলার অন্তর্গত চকবাহাদুর পুর নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত দীনেশ মন্ডল ও মাতা মেনকা দেবী। লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে প্রুফ সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানীয় বিভাগে স্নাতকোত্তর হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-"আরশি ভাঙা জানালার পাশে","হৃদয়ের আরমান"," মাগো তুমি" প্রভৃতি কবিতা প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন যৌথসংকলনে কবিতা প্রকাশ-"কাঁচের জানালা" প্রভৃতি। ছোটগল্প-"মা","অসমাপ্ত প্রেম","হোস্টেল, স্বপ্নের ধ্বস প্রভৃতি , প্রবন্ধ-"সমাজ ধর্ষকের বিরুদ্ধে" মুক্তি পেয়েছে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ -"পুরোনো স্মৃতির ভিড়ে"। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন-সনেট, আগডুম বাগডুম, অচিনপাখি, বর্ণকোষ প্রভৃতি।২০১৮ সালে মুকুর শারদ সম্মান ও মুকুর সাহিত্য সম্মান পেয়েছেন। লোকগীতি বাউল শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।বর্তমানে বেসরকারি স্কুলে কর্মরত ও সঙ্গদীপ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক।একদিন ঘুম ভেঙে যাবে
প্রদীপ মন্ডল(সম্পাদক)
ক্লান্তির মাঠে হাঁটতে হাঁটতে ঝুলন্ত বারান্দায় এসেছি;
আঁতুর ঘরের বেদনার মাটিতে কবিতা লেখার গন্ধ পাই;
দুর্বল দুপুরে নব্যজাতের নিস্তব্ধ ঘুম,
অসুখের অক্ষরে অক্ষরে জড়িয়ে আছে মৃত্যু;
কুয়াশা মুখে সাদা হয়ে গেছে দিন কাল,
কামনার কাঁসর ঘন্টা অসুস্থ সিঁড়ি বেয়ে বিকেল ঝিমিয়ে উঠে;
গ্রহের পূর্ণ গ্রাস ভ্রু যুগল গিলে খায়;
বন্দরে ফিরছে শরীর নীলাভ সূর্যের আলাপচারিতায়;
আঙুল ডুবিয়ে ক্ষীর খাই অন্ধকার গভীর রাতে,
পালকের মৈথুনে ময়ূরী স্নান করে,
বিশ্রামের বিছানায় জীবন জুড়ে স্বপ্নের পিঁড়ি খেলে যায় নিত্য;
সমাধির পাশে বসে একগুচ্ছ কবিতা লিখি;
ইচ্ছে শক্তির বিরুদ্ধে তোমাকে গান শুনাচ্ছি,
সাজানো অতীত গলা টিপে হত্যা করতে চাই;
ঘুম ভাঙার হুইসেল বাজে ভোর চারটায়;
জেগে দেখি কেউ নেই, আসলে সব মায়া,
তবুও আমরা উড়তে চেষ্টা করি সবুজ বাড়ির কালো শহরে,
আমাদের মৃত্যু আছে, স্বপ্নের মৃত্যু নেই,
একদিন ঘুম ভেঙে যাবে -----------
________
অনুবাদ কবিতা
Comments
Post a Comment