সঙ্গদীপ ষান্মাসিক পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যাটি প্রকাশ করা হল। প্রকাশের সময়কাল -১৪ই মে ২০২৪, বিকেল -৫:৫৫ ।

          ছড়া ও কবিতা 

কবি পরিচিতিঃ 
উদীয়মান কবি ও সম্পাদকঃ
শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া(জয়) চাঁদপুর জেলার মুড়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ
ভারত থেকে প্রকাশিত "সৃজন প্রদীপ" বই সহ ১০টি বই।
সম্পাদিত বইসমূহঃ ১."কপোল স্পর্শে" ২."অসংজ্ঞায়িত সমীকরণ"
এবং দেশ বিদেশের জাতীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি করে থাকি।

     হে বৈশাখ
শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া (জয়)

বৈশাখ মানে
ঝড়ো হাওয়া কলি-পুষ্পের মেলা,
বর্ষবরণ ফুলে-ফুলে কত-শত খেলা।
লাল-সাদা রঙ্গে-অঙ্গে বৈশাখীরও রং,
সেজে-বেজে কীর্তনখোলা বাজে ঢং-ঢং।

বৈশাখ মানে
শিশু-কিশোর দোলছে নাগর দোলা,
নীলাকাশে রঙিন ঘুড়ি ছুটাছুটির খেলা।
পান্তা-ভাতে নুনেরছিটে ইলিশ মাছে ভাজা,
স্বজন মিলে ভোজন করে ঐতিহ্যকে খোঁজা।

বৈশাখ মানে
ভেদাভেদ ভুলে উৎসবে মুসলিম-হিন্দু,
আনন্দ ভাগাভাগি নাও করে বিন্দু-বিন্দু।
নৌকা বাইচে লোকগান গাহে ডাক-হাঁক,
জাতি মোরা বাঙ্গালী এসো হে বৈশাখ। 
          ******
    এই বোশেখে 
নবারুন কান্তি বড়ুয়া 

এই বোশেখে মেলা বসে
বটবৃক্ষের তলায়,
এই বোশেখে চাষি ভাইয়ে
তরমুজ বাঙ্গি ফলায়।

এই বোশেখে কালবৈশাখী 
ভাঙে গাছের ডাল, 
এই বোশেখে নৌকা চলে 
উড়িয়ে তার পাল।

এই বোশেখে কাঁচাপাকা 
টক মিষ্টি আম,
এই বোশেখে আরো ফলে
কাঁঠাল লিচু জাম।

এই বোশেখে ভুলে থাকা
পুরোনো সব দুখ,
এই বোশেখে আশা সবার 
আসবে এবার সুখ।
     *****
কবি পরিচিতিঃআমার নাম মাম্পী দাস। আমার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত মারুট নামক একটি ছোট্ট গ্ৰামে। বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 2023 সালে আমি বাংলা বিষয়ে MA complete করেছি। নানান প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত হয়ে চলেছে, কিছু আঘাতের প্রাপ্তি ঘটেছে সেই অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির মিশ্রিত ফল এই কবিতা।


              ভুল শহর  
                  
তোমার চেনানো শহরে আমি বড় ক্লান্ত
তাই ঠিক করেছি তোমার শহর তোমার কাছে রেখে যাবো।
চলতে চলতে আবারো এসে পৌঁছেছি ভুল শহরে তোমার দুয়ারে,
অজস্র ভিড়ের মাঝে তোমার হাত আমার স্পর্শ করে গেছে
সেই স্পর্শ আমার হৃদয়কে শত ব্যস্ত করে তুলেছে
শত ভিড়ের মাঝে হয়তো এক পলকের চাউনি না পেলেই ভালো হতো
তবে নিরব হৃদয় ফুলের সৌন্দর্য অপরূপ সুগন্ধিময় ছিল ‌‌।


যদি কখনো পারো আমার শহরে এসো, যা কখনো নাম পাবে না 'ভুল শহর' নামে ।
পুষ্ণ বিছিয়ে দেবো তোমার আগমনে
দিগন্ত বিস্তৃত গগনের নীচে তোমায় আঁকড়ে ধরবো।

আমার ব্যাকুল হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দনে তোমাকে পাই
আমার নয়নের দৃষ্টি গিয়ে যখন পৌঁছায় তোমার কাছে তুমি তখন অন্য কারো সাথে।
             *******

কবিপরিচিতিঃ-বৃন্দাবন ঘোষ বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর থানার আবরার মাঠে বাস করেন।তাঁর দেশের বাড়ির নাম করমা।তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বেশ কয়েকটি গল্প ও কবিতার বই লেখেছেন।তিনি আকাশবাণী কলকাতার দীর্ঘ দিনের পত্র লেখক।

    চাবিকাঠি
স্বভাব কবি বৃন্দাবন ঘোষ

কিভাবে কি করে জানি না
তুমি আমার মন ছূঁয়ে দিয়েছ
মানে হৃদয় স্পর্শ করেছ।
তার মানে এই নয় তুমি আমার
সব অধিকার লাভ করেছ।
মাথা হাত পা চোখ মুখ কানের
এবং আমার শরীর আচ্ছাদনের ভিতরের
অঙ্গের অধিকার পেয়েছ।
তুমি দারোয়ান
মালিকের ভিতরের ঘর তোমার
রহস্যই রয়ে গেছে।
কতটা বিশ্বাস করলে মানুষকে
সব দেওয়া যায়, মন ছোঁয়ার পর
তার অনুশীলনের প্রয়োজন রয়েছে।
তা হল নিস্কাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
এর ক্ষমতা অসাধারণ।
সব কিছুকে পাওয়ার আসল চাবিকাঠি।
এক চাবিকাঠিতেই সফল মানব জীবন।
               ******
কবিপরিচিতিঃমূলত কবিতা এবং গল্প লেখেন । এ পর্যন্ত প্রকাশিত ছ' টি কাব্যগ্রন্থ , একটি গল্পগ্রন্থ ও একটি উপন্যাস । সাহিত্যে নিবেদিত প্রাণ , পাঠক হিসেবে সর্বভূক । জীবনকে দেখতে চান বিচিত্র রূপে , বিভিন্ন আঙ্গিকে ও ভালোবাসায় ।

   রেখা
গণেশ ভট্টাচার্য
১.
বাঁশি ছিল রোদ্দুরের হাতে
আমি তা নিজের কাছে নিয়ে এলাম

২.
ছিঁড়ে যায় সম্পর্কের জামা
তবু আমি ছিঁড়তে পারি না ভালবাসা

৩.
অনন্ত রাতের সঙ্গে কথা বলি
মিশে যাই অন্ধকার হয়ে

৪.
এবং সকাল আসে
নতুন রূপের রেখা পৃথিবীতে ...
         ******
কবি পরিচিতিঃ-আমি পিয়ালী সাহা, বর্তমানে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর লেখাটাকেই বেছে নিয়েছি নিজের সখ হিসাবে নিজেকে লেখিকা বলার স্পর্ধা নেই তাই যেটুকু পারি সবটাই মা বাবা আর বড় বাবার জন্য।

         *মা*
    পিয়ালী সাহা

মা গো তুমি মমতাময়ী,
সর্বদা মুখে থাকে হাসি
কেউ কি বোঝে তোমার কষ্ট!
বুকে যন্ত্রণা রাশি রাশি।
সকল বেদনা ভুলে রাখি 
তোমার কোলেতে মাথা,
নিজের কষ্টগুলো জমিয়ে 
রাখো নিজের মধ্যেই বাঁধা।
মা গো তুমি করুণাময়ী,
বোঝে না কেউ তোমার ত্যাগ
তাই তো তুমি অবহেলিত
বৃদ্ধাশ্রমের দোরেতে আজ।
তোমার মর্ম বুঝবে কবে?
 এই নরপশুদের দল,
তবেই যে হবে আত্মশুদ্ধি
এই সমাজের ঘোর বদল।।
      *****
যন্ত্রণার বিকেলে 
ইমরান আল ফারাবি

যন্ত্রনার বিকেলে এলে তুমি
এলে,আঁধারে ছিলেম আমি
মেঘেরো কান্না গেল থেমে
ল্যামপোস্টের কিনারে ঘেসা 
লাল সবুজ জ্যামে
প্রিয় এলে এ কোন বিকেলে
যন্ত্রনার বিলাশ এখনো বাকি

সিগারেটের ধোঁয়া ওঠা থামেনি 
কালো ঠোঁটের ঘোর এখনো কাটেনি
টঙ্গের চা এখনো সেকেলে
ডিম ভাজি,পরোটা, পুরি মিলে
প্রিয় এলে এ কোন বিকেলে
যন্ত্রনার বিলাশ এখনো বাকি

নিঃশব্দে ঘুম আর আসেনা
আকাশে নামে না আর সাদা জোৎস্না
চিলেকোঠায় কবিতারা নষ্ট সুর তোলে
ছবি আঁকি না আর বদ্ধ জলে
প্রিয় এলে এ কোন বিকেলে
যন্ত্রনার বিলাশ এখনো বাকি।
        *******


কবি পরিচিতিঃ কবি তারেক ভূঞার জন্ম নব্বই দশকের শেষদিকে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার  বড়ইতলা গ্রামে। পিতার নামঃ মোঃ কবির হোসেন ভূঞা,মাতার নামঃ মোসাঃ ফেরদৌসি সরকার। একজন লেখক হিসেবে তাঁর হাতেখড়ি স্কুলের মাধ্যমিক শ্রেণি থেকেই। 'বিচ্ছিন্ন ফুলের পাপড়ি'তাঁর প্রকাশিত  একক কাব্যগ্রন্থ,তাছাড়াও রয়েছে যৌথ একাধিক কাব্যগ্রন্থ। মেঘনার পাড়ে জন্ম নেয়া এই তরুণ কবি আইন বিভাগে অনার্স করছেন।  জীবনের শেষ দর্শন পর্যন্ত তিনি দেশ-জাতি আর মানবতার পক্ষে লিখে যেতে চান।

স্বপ্ন আমার শূণ্য পকেটে
   -তারেক ভূঞা। 

শূণ্য পকেটে স্বপ্ন আমার শহরে ফুটবে তারার ফুল
চাঁদকে কাছে পেয়ে সবাই হবে খুব ব্যাকুল,
শূণ্য পকেটে রকেট কিনে পাঠায় মহাকাশে 
অদৃশ্য কত স্বপ্ন আমার উড়ে বেড়ায় রোজ বাতাসে
ফুলের বাগানে হরিণের খামার,ময়ূর ডাকে ময়ূরী নাচে পেখম মেলে
কত পৃথিবী চুরি করেছি কভু যায়নি জেলে

শূণ্য পকেটে হেলিকাপ্টার  কিনি,বিমান দেয় ভাড়া
শীর্ষ একশো ধনী ঋণী,আমি স্বপ্নে বিভোর,আছে শত ঘোড়া

আমার বাগানে কৃষ্ণচূড়া শিউলি কদম হাসনাহেনা
ভালোবাসার বিনিময়ে ফুলের বাগান কেনা
শূণ্য পকেটে সুখী আমি,স্বপ্নের মত উড়ি
বীর বাহাদুর হয়ে আমি মীর জাফরের সনে লড়ি
পাখির মত মরার ভয়ে উড়িনি আকাশজুড়ে
চাঁদ উঠেছে দিনদুপুরে আমার কু্ঁড়েঘরে
শূণ্য পকেট নীরবতায় দেখেছে মানবতা
জাগলে একবার হাজার বছর বলেছে সত্য কথা।
               ********

দূরত্ব অনেক খানি 

কাজল আচার্য

খেয়া দুটো চলে গেছে

শব্দ সীমানা ছাড়িয়েবা

দবাকি পরিজন আকাশের খোঁজে।

মৃত্তিকার গন্ধ নিয়ে
রোগগ্রস্ত গাছ আমি এক
জীর্ণ পাতার স্তুপে
কলঙ্ক কাহিনি ঢাকি।
বাক্স সে খোলেনি অটুট বিশ্বাসে বহুদিন
মলাটের বৈচিত্র্যে  বিপুল সংগ্রহ
দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ক্রমে গ্রাস করেছে সময়
ফেরিওয়ালা ফেরেনি ঘাটে
লাল আলো জ্বলা নেভা দেখে বোঝা যায়
স্রোত এগিয়ে গেছে...

     ******

মনোহরপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর - ৭২১২৩২

          পরিযায়ী নৌকা

              উৎপল দাস 

ঠোঁটের পাশে রাখা আছে অমূলদ গোত্রের কয়েকটি প্রলাপ, তারা ই-রিক্সায় চড়ে চলেছে ইস্কুলে, পথে ওঠানামা করছেন নতুন যাত্রী, ভাড়ার পরিবর্তে যে-যার নির্জনতা সম্প্রসারিত করছেন নেয়ারবাই শেয়ারে, দুপাশে ধুলো উড়ছে, উড়ছে নতুন গসিপও, কানে ঢুকছে না বিজ্ঞাপনের পাঞ্চ লাইন, অথচ ককটেল মার্কা গণিত খাতায় আজ হোমওয়ার্ক ভুলে যাওয়ার দিন ছিল কিন্তু কোনও কারণে সেটা উপস্থিত, অগত্যা নিলডাউনে কেটে যায় অবশিষ্ট সময়, পরবর্তী কনফেশনের আগেই চোখে-মুখের বর্ণনা দিব্যি বলে দিচ্ছে মিথ্যের সাথে কিছু আংশিক সত্য মিশে তৈরি হয়েছে ধাঁধার, অন্ধকারে চেনা যায় না, বোঝা যায় অনুভবে, ইন্দ্রিয়ের সেন্সর বোর্ড বড্ড তীক্ষ্ম, ধরা পড়ে আয়নার মধ্যে, জলের স্বচ্ছতায় কিংবা রোদের উজ্জ্বল বর্ণে দেখা হয় টাইটানিকের গুপ্ত মাস্তুলের।
               *******
 কবি পরিচিতিঃ গোপেশ কুমার মন্ডল । কবি, ব্লগার , গীতিকার, সুরকার, স্টোরি & স্ক্রিপ্ট রাইটার । Upcoming project: "Amar Akash,, a short film ,  "Mexy Dance,, a  item song music video . Release  project : Avisapto Oporadhi & Harano prem ( short film ). "মায়ের জন্য মর্তে এলাম,, একটি  ভক্তিমূলক গান । এছাড়াও বেশ কিছু কবিতা ও ব্লগ প্রকাশিত হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু  ম্যাগাজিন এবং বইতে।তবে তিনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন রোমান্টিক বাংলা এবং  হিন্দি গান লিখতে ।
           সুস্মিতা 
   গোপেশ কুমার মন্ডল

হৃদয়ের স্পন্দনে কিবা আবেগের ক্রন্দনে 
একটাই নাম উচ্চারিত হয় প্রতি ক্ষণে ক্ষণে। 
জরা জীর্ণ শীর্ণ এই হৃদয় মাঝে 
তোমাকে নিয়ে যে কত স্বপ্ন সাজে। 
তুমি আশা ভালোবাসা হৃদয়ের বাসনা 
তুমি প্রেম প্রার্থনা জীবনের সাধনা । 
রাখতে চেয়েছি প্রেম শুধু বুকে জড়িয়ে 
ধমনী শিরায় প্রেম তবু গেলো ছড়িয়ে। 
তন-মন রক্ত প্রেমেতে  আসক্ত 
প্রেম যদি বিষ হয় বিষেতে বিষাক্ত। 
আবেগ আর বিবেকের তর্ক-বিতর্ক 
তুমি বিনা এ জীবন সত্যিই  ব্যর্থ। 
তুমি ছাড়া শূণ্যতা নেই পরিপূর্ণতা 
তুমি মোর ভালোবাসা শুধুই সুস্মিতা। 
             ******
কবি পরিচিতিঃ ১৯৯৮ সালের ২০এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার গনেশপুর প্রথম ঘেরী গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লেখিকা কবিতা মাইতি। তার পিতার নাম হৃষিকেশ মাইতি পেশায় একজন কৃষক এবং মাতার নাম  শেফালী মাইতি উনি একজন গৃহবধূ।তিনি কাশী নগর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, নিশ্চিন্তপুর রাখাল দাস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ , সুন্দরবন মহাবিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করেন, এছাড়া বিএড পাশও করেন। তিনি অনেক ছোট থেকে কবিতা লিখতে পড়তে এবং বলতে খুব ভালোবাসেন।

             মাতৃস্বরূপ
           কবিতা মাইতি

মাতৃরূপে স্নিগ্ধ শিশুদুলছে কোলে,
আপন মনে খেলা করে দুষ্টু হাসি নিয়ে।
     বউ সাজি তার বায়না নিয়ে,
     কত রকম খেলনা খেলে।
     মায়ের মন খুশি করে-
     আনন্দেতে নেচে গেয়ে।
তবুও তার মায়ের মনে নেই কোন সুখ,
মাতৃ স্বরূপ নিয়ে সে সরাবে তার দুঃখ।
                  *******

                       সূর্যদেব

                 হারাধন ভট্টাচার্য্য।

হে দেব দিবাকর, মহাতেজ ধর,ভাতিছ গগনে,
বিষ্ময়ে বিরাজিত,এ মহাজগত,ঐ মহাশূন্যে।
প্রভাতে লালিমা, প্রশান্ত অরুনিমা ব্যপ্ত বিশ্বে,
চরাচর জাগে, প্রভাতী রাগে,জাগে কলহাস্যে।
তুমি জগত পিতা, তমস ত্রাতা, জাগে দ্যূলোক,
অমৃত আলোকে,পরম পুলকে,বাঁচে জীবলোক।
আলো রং ছেনে, ফুল বনে,রঙের মাধুরী জাগে,
রামধনু হাসে, দূর আকাশে, জীবনের অনুরাগে।
ঘোরে গ্রহ-গ্রহানু,অনু-পরমানু,ভাঙে আর গড়ে,
অগ্নি গোলা, অবিরাম লীলা খেলা,সূর্য গহ্বরে। 

পৃথিবীর ঋতুরঙ্গ,তোমারই অনুষঙ্গ, মহিমান্বিত,
সৃষ্টির সঙ্গীত বাজে,ধরা মাঝে,শান্তি বিরাজিত।
আলো মাখা দিন,স্বপ্ন রঙিন তোমারই করুণায় ,

বিকশিত প্রকৃতি, প্রাণের প্রনতি, ওগো প্রভাময়।।

                     ******

কবি পরিচিতিঃ ফারুকপ্রধান 
লাইব্রেরিয়ান
শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট 
মাতুয়াইল, ঢাকা-১৩৬২।

বৈশাখ এলোরে

বৈশাখ এলোরে
মুকুলের সুবাসে
বৈশাখ এলোরে 
আম, জাম, কাঁঠালে
বৈশাখ এলোরে 
ধূলিকণা বাতাসে
বৈশাখ এলোরে 
ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে
বৈশাখ এলোরে 
তুফানের বেগেতে
বৈশাখ এলোরে 
টিন উড়ে যায়রে
বৈশাখ এলোরে 
মেঘে মেঘে ঘর্ষণে
বৈশাখ এলোরে 
পাগলের বেশেতে
বৈশাখ এলোরে 
সমীরণ মাতালে
বৈশাখ এলোরে 
জৈষ্ঠীর সুঘ্রাণে।
   ******

      

কবি পরিচিতিঃ  ইন্দ্রজিৎ মিস্ত্রী
গ্রাম +পোষ্ট : আন্ধারমানিক
থানা : বিষ্ণুপুর
জেলা : দক্ষিণ ২৪ পরগনা
পিনকোড : ৭৪৩৫০৩   
  
      তীর্থের কাক

জলাশয়ে ভাসমান কলমীরদামে
 তীর্থের কাক হয়ে বসে আছে
 ভোরের শিশির ভেজা এক বক
 চুনোপুঁটি খাবে বলে

 সংসার সমুদ্রে আমিও আছি
 সেই তীর্থের কাক হয়ে 
 একমুঠো সুখের জন্য 
        *******
কবি পরিচিতি:-
বদ্রীনাথ পাল। পিতা-৺ক্ষুদিরাম ও মাতা-৺শিবদাসীপাল। জন্ম পুরুলিয়া জেলার বাবিরডি গ্ৰামে। বাংলায় স্নাতক।প্রথম কাব্যগ্রন্থ -টাপুর টুপুর মিষ্টি ছড়া। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা, বাংলাদেশ, কানাডার অটোয়া, আমেরিকার নিউজার্সি,লণ্ডন প্রভৃতি স্থানের বহু পত্রিকার নিয়মিত লেখক। জিরো বাউণ্ডারী পত্রিকা কতৃক নজরুল সম্মানে ভূষিত।


              আশা
        বদ্রীনাথ পাল

পুরাতনকে বিদায় করে দিয়ে-
নতুন বছর এসে হাজির হলো,
পলাশ শিমুল তাইতো সবাই আজ-
হয়েছে ভাই গরব ঢলো ঢলো !

কুহুর সুরে ডাকছে কোকিল ভোরে-
মঞ্জরীরা দিচ্ছে উঁকি ডালে,
মৌমাছিরা গান জুড়েছে সবে-
ফুল বাগিচায় গুণ্ গুণাগুণ্ তালে !

নতুন বছর, এই রইলো আশা-
দুখ দৈন্য সব সরে যাক দূরে,
বিশ্ব ভরুক আনন্দ উৎসবে-
প্রাণের বীণা বাজুক নতুন সুরে !
           ******
কবি পরিচিতিঃ নাম: পলাশ পাল
ঠিকানা: মানকুন্ডু পালপাড়া লেন, হুগলী

        নৈঃশব্দ্য
      পলাশ পাল

একটা সরলরেখার ওপরে
প্রতিদিন‌ই ভাঙতে থাকি
নিজের জ্যামিতিক জীবনটাকে
তোমার চোখের জলে ভেজা
একটু একটু করে বড় হ‌ওয়া 
বৃত্তের বাইরে
সাদা পাতায় কঠিন লড়াই...
কথা বদলালে মুখোশ বদলে যায় 
ত্রিভুজের গন্তব্যে 
হেসে ওঠে আজ
আঁধারের নৈঃশব্দ্য..
      ******

কবি পরিচিতিঃ কলমে-প্রসেনজিৎ দলুই, গ্রাম-বেলুটি,  পোঃ-বেরেন্ডা,থানা-আউসগ্রাম,জেলা-পূর্ব বর্ধমান

     বিরহ-বেদনা

আর হয়তো দেখা হবে না কোনোদিন
বন্ধন ছেঁড়ার শব্দ শুনতে পায় প্রতি মুহূর্তে।
ব‍্যবধানের প্রসারনতা বেড়ে চলেছে,
এ যে স্থিতিস্থাপক নয়।
দূরত্ব গুরুত্বকে লঘু করে দেয়।
আর দেখা হবে না 
ব‍্যয় হবে না জানি এ দুঃখের সঞ্চয়।
 
পৃথিবীর গোলকত্বে আশা জেগেছিল মনে,,
কিন্তু ঘূর্ণন বৃত্ত যে ভিন্ন।
উভয়ের সাধারণ বিন্দু যে নেই-তা নয়,
দু একটা আছে, সমপতিতের 
ইচ্ছা, তাগিদ কারোও নেই কোনো।

আর দেখা হবে না,জন্মান্তর যদি মানো,
খুঁজে নিও লক্ষ-কোটি জনতার ভিড়ে,
এ প্রেমের সত্ত্বা এমনই রবে তখনও।
               *******



কবি পরিচিতিঃ নবী হোসেন নবীন

গ্রাম-বাঁশিল,ডাকঘর-কাঠালী

উপজেলা-ভালুকা,ময়মনসিংহ

       তোমার চোখের তারায়

আমি তোমার কবিতার পাঠক নয় চিত্রকল্প হতে চাই

মনের গহীনে নয় চোখের তারায় খুঁজি ঠাঁই।

তোমার চোখের আড়াল হয়ে 

মনের আড়ালে হারাতে চাই না প্রিয়া

চোখের জলে যেন সিক্ত না হয় আমার রিক্ত হিয়া।

এসো না প্রিয়া চোখে চোখ রেখে

চোখের তারায় হারিয়ে যাই।

চোখ খোলে যেন ফের চোখের তারায়

তোমাকেই দেখতে পাই।

শূন্য যদি থাকে থাক কবিতার খাতা

পলকে পূর্ণ হউক দুচোখের পাতা।

চোখের তারায় যদি না হাসে তারা

রাতের আকাশ দেখে কে হয় আত্মতারা?

            ******

কবি পরিচিতিঃ  আমি সঞ্জয় কুমার নন্দী। ভারত, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার চকদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ দক্ষিণ শুঁড়া গ্রামে বাস করি। লেখালেখি শুরু অনেক ছোটবেলা থেকেই। তখন থেকেই  বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু। বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক মানের যে পত্রিকা গুলো বাহির হয় যেমন— জিরো বাউন্ডারি, মহানগর পত্রিকা, রেনোসাঁ, বীরভূমের রোদ্দুর, কলকাতায় তারুণ্য, মেদিনীপুরে অরুণাঞ্জলি , পূর্ব বর্ধমানের খাসপত্র পত্রিকা, নিভুজি বাজার থেকে সংবাদ পল্লী চিত্র, হুগলি পান্ডুয়া থেকে চিরাগ পত্রিকা ইত্যাদি এসবই মুদ্রিত।
বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা কথা ও কাব্য, নির‌ব আলো ,সত্য সাহিত্য, সত্তা সাহিত্য পত্রিকা ,প্রাঙ্গণ , তেজস্বী সাহিত্য পত্রিকা সম্মতি সাহিত্য পত্রিকা সুদূরের পিয়াসী আন্তর্জাতিক পূর্ণিমার আলো ,শাদ্বল,গুরুজী, ধা , শব্দনগর, শব্দবাণী, শব্দ রাণী ইত্যাদি।
এখনো পর্যন্ত কোন একক বই বের হয় নাই।

     তথৈবচ 
সঞ্জয় কুমার নন্দী 

মহাশূন্য...
কেবলই কি শূন্য..!

এত বৃষ্টি... এই আকাশ বাতাস-
এত তাপ-উত্তাপ...
ওই সূর্য সবাই কি তাহলে
বন্য..! শূন্যের খেলা ঘরে ?

মহাকাল লীলা
দেখেছি-, এ বঙ্গে তথা ভারতে
বিশ্ব দেখেছে চাঁদের গর্ভে—
মানুষের চলাচলের প্রতিধ্বনি...

বনস্পতি , চর্বিত পিন্ডের-
পাকানো দলমতি ,
বাতাসে ধেয়ে আসে শুধু প্রতিশ্রুতি।
       *******

         
          গোপনে আত্মহত্যা করি  
             হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

             চলো এখন আমরা সবাই  গোপনে আত্মহত্যা করি ।সম্পর্কগুলো একসময় ভালবাসার মোড়কে পাশ ফিরে শোবার কথা ভেবেছিল,ভেবেছিল মানুষকে  পশু বানানো বাঁ হাতের খেল,আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণ সবই বাসনালিপ্ত. ..
ট্রাডিশনালিটির রি মেকিং. ..ফলত: পাতার পোশাকে
আর আধখাওয়া আপেলে একটু স্বস্তির শ্বাস. ..
ফেলবার জায়গা খুঁজছিল ।
আর এদিকে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে রূপোর কাঠি ছুঁইয়ে অধুনান্তিকতায় আপডেট চলছিল ,জোরকদমে তবু শেষ রক্ষা হলোনা ।
রূপকথার গল্প গুলো চিচিং ফাঁক ...
মস্ত বড়ো ভুল হয়ে গেছে এখন আর উ পায়ে নেই ।
আবরণ অথবা আভরণ কোনো কিছুতেই তাদের বশ করানো যাবে না ....
ভাত ছড়ালে কাক হাজির এসব বস্তাপচা বাক্যে ভবি ভুলবার ন য়,স্থলপথে জলপথে সর্বত্র সাজানো ঝুমঝুমি, সোনালি ত্রিভুজ. ..
সার্কিট চেঞ্জ করতে বেশি সময়ে লাগে না 
তবু পাঁচমুড়া ডোকরা বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির ঘোড়া 
ফ্ল্যাটবাড়ির খোপে খোপে কী বিচিত্র আয়নায় ফুটে উঠছে, ডিনার টেবিলে বিসমিল্লাহর পাগলা সানাই ।
অপেক্ষা শেষ হয়ে গেছে বলে যারা গৃহত্যাগ
 করেছিল একদিন হেলেঞ্চা আর কচুরিপানার সঙ্গে 
তারাও ফিরছে আজ দলে দলে ...


               রতিসুখসারে
             হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 

সবকিছু মূল্যহীন করে এমন এক নতুন জিনিস উপহার দিতে হবে যাতে প্রেমিকার দুচোখ জলে ভরে যায় ,অবশ্যই তা আনন্দাশ্রু অনুমোদনের অপেক্ষা রাখে না।যে সাদা পায়রা সে চিঠি পৌঁছে দেবে ,সে কি  জানে প্রেম কাকে বলে  ?দিনে দিনে তিল তিল‌ করে জমানো যে মুক্তো কার সামনে উন্মুক্ত হবে তাতো জানার কথা না,ইচ্ছামৃত্যুকে বরণ করাও যা ভালবাসাও ঠিক  তাই ।
যে জীবনে রাজভোগ খেল না,সে কি করে বুঝবে
মিষ্টি কতটা ,পূর্ণিমা হবার কামনা  বাসনা চাঁদের চিরকালীন অমাবস্যা থেকেই তা বোঝা যায় 
বোঝা এক জিনিস আর ভাবা আরেক জিনিস. ..
কিন্তু হয়ে গেলে জ্ঞানী ও নিমেষে মূর্খ হয়ে যায় 
পৃথিবীর এই বিপুল আয়োজন সংবিধান
বহির্ভূত বড়ো বিচিত্র এই ভালবাসা, সৃষ্টির কলাকৈবল্য মুখে বললে তার গভীরতা কমে যায় 
প্রেমিক প্রেমিকা তাই উভয়েই খুনী যেদিন স্পর্শ করে দেহ, সেদিন ধড়ে আর শরীর থাকে না ,হাতে হাত নেই ...আঙুলে আঙুল  নেই, আলিঙ্গনে নেই সে গন্ধরাজ 
যাকে তার তিল তিল করে লালন পালন করেছিল সহস্র বছর কত বিনিদ্র রজনী. ..একটি ঢেকিশাল 
তুলসীমঞ্চের পাশে,সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি সবই ছিল রতিসুখসারে রহস্যেরঙিন. ...
                 *******

কবিপরিচিতিঃ সুভাষিতা ঘোষ (দাস)--জন্ম ১০/১/৮১,  বীরভূম। বর্তমান নিবাস বীরভূম। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অন্বেষণে' ,প্রকাশ আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৩।প্রথম উপন্যাসিকা 'অল্প একটু আকাশ ' ,প্রকাশ আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা  ২০২৪।

       ছায়া 
সুভাষিতা ঘোষ (দাস)

জানি
অপেক্ষার শূন্য নদে পড়ে আছে শুধু 
শুষ্ক ধূ ধূ বালি,
বেশি কিছু হলে
দু'একটা কাঁটা পাতার গাছ আর
দাঁড়হীন ভাঙ্গা নৌকার পাটাতন!
সেখান থেকে সাগরের শব্দ শোনা যায় যদিও 
তবে স্বর্গের সিঁড়ির মতো সেই রাস্তাও 
আজীবন রয়ে যাবে নিখোঁজ!
তার চেয়ে পাড়ের জারুল গাছের তলায় বেশ ছায়া,
সবুজ ডালে বাসা বাঁধতে পারে
গন্ডাকতক বিহগ....... 
  *******

কবি পরিচিতিঃমলয় সরকার- পেশায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক, রসায়নে স্নাতকোত্তর ( আই আই টি খড়্গপুর), লেখালিখি ( গল্প, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি)বহুদিন দেশ বিদেশে বহু পত্রপত্রিকায়, জ্ঞান ও বিজ্ঞান, সুখবর দৈনিক,নিয়মিত লেখক জ্বলদর্চি,  ভাষা সংসদের অনুবাদপত্রিকায় ও অন্যান্যতে, অনুবাদকর্মের জন্য ভাষা সংসদের সোনালী ঘোষাল স্মৃতি পুরষ্কার, প্রকাশিত গ্রন্থ  তুর্কিনাচন, ঝরা ফুলদল, স্থায়ী নিবাস সোদপুর, উঃ ২৪ পরগণা, পঃবঃ, নেশা দেশেবিদেশে  ভ্রমণ, উদ্যানচর্চা, বিভিন্ন সমাজসেবার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

আমি ভাল আছি

মলয় সরকার

আমি ভাল আছি তোমার স্বপ্ন-

অঞ্জন দুচোখে লাগিয়ে চোখে

রোদে জলে কান্নায় কিংবা নীরব বনচ্ছায়ায়

পাতা ঝরা হলুদ বিকালে

কিংবা বিষন্ন সন্ধ্যায়-


আমি ভাল আছি

সবুজ মসের মত স্মৃতির আচ্ছাদনে,

যন্ত্রের নিষ্পিষ্ট চক্রের আবর্তনে

দূর কোন জাঙ্গালের ধারে

সংসার মন্থনে,

আমি ভাল আছি

মেঘাচ্ছন্ন বিকেলের চাদর জড়িয়ে

ক্যাকটাসের দুরন্ত কাঁটায়,

আর স্বপ্নের নিভে আসা দীপের আলোতে

তবু অনন্ত ছায়ায়-

******

 

কবি পরিচিতিঃ আমার নাম সঞ্জয় ব্যানার্জীআমি চুঁচুড়া,ব্যারাক রোড, হুগলী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা।আমার পেশা ও নেশা কবিতা,গল্প ও উপন্যাস লেখা।অনেক নামকরা পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়।অনেক পুরষ্কারও জীবনে পেয়েছি।আমি সমৃদ্ধ ও সম্মানিত হয়েছি।বর্তমানে আমার বয়স ৫৮ বছর।


       মা তো নেই 

       সঞ্জয় ব্যানার্জী


আমি সব শিখে নিয়েছি

তুমি আমাদের রেডি করে দেবে না

তাহলে আমি স্কুলে যাব না।

একদিন আমরা কোলকাতাতে আমাদের বাড়িতে আসি।

আভা মিস আমাদের বাড়ির সামনে,

আমার মায়ের খুব বন্ধু

দুপুরে মায়ের সাথে রোজ গল্প করে।

আমাকে নিয়ে মায়ের অনেক অভিযোগ 

আভা মিস আমাকে আদর করে

ঠিক আমার মায়ের মতো।

আজ মা তো আমার নেই 

কিন্তু তাতে কি ?

আভা মিস তো আমার আছে।

        *****

কবি পরিচিতি: -
                     চন্দ্রকান্ত সরকার, পিতা:- দিলীপ সরকার এবং মাতা:- আলপনা সরকার। ১৯৯৭ সালে, মালদা জেলার মানিকচক থানার অন্তর্গত নাজিরপুর গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও বি.এড। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লেখালেখি করা এবং রচনা করা।

         নব বর্ষ
   চন্দ্রকান্ত সরকার 


পুরোনো কে বিদায় দিয়ে
নতুন বছর এল
নতুন করে বাঁচার আশা
আবার নিয়ে এল।

১লা বৈশাখ-- ১৪৩১
সাল, নববর্ষের ভোরে
লাল কালিতে লিখা
হলো বাংলা ক্যালেন্ডারে।

নতুন সূর্য, নতুন 
ভোরের, বার্তা দিল আনি
নতুন জীবন, নতুন 
দিনের শোনায় আগমনী।

নতুন জীবনের নতুন আলো,
নতুন বছর কাটুক ভালো।।
        *****

কবি পরিচিতি:
                     সূর্যকান্ত সরকার,পিতা: দিলীপ সরকার ও মাতা: আলপনা সরকার।১৯৯৯খ্রী: মালদা জেলার মানিকচক থানার নাজিরপুর গ্রামে এক দরিদ্র মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও বি.এড । লেখালেখি নিয়ে ভাবতে ও নিজেকে সময় দিতে অনেকটাই বদ্ধপরিকর, কেননা সাহিত্যই আমার বেঁচে থাকার রসদ।

                        নবীন
                   সূর্যকান্ত সরকার

হে নবীন, আজি নবপ্রভাতের নবদিবস মাঝে,
এসেছো 'অতিথি ' তোমরা নবরূপে, নবসাজে।

পুরাতনের মাঝে নতুনের শুভাগমন ----
এ যেন প্রকৃতির কাছে নিয়তির বিধান!

বিশ্বজগতসভায় তোমাদের আগমন,
সফল হোক আশা, পুণ্য হোক জীবন।

ললাটে চন্দনের জয়টিকা লয়ে,
এগিয়ে চলো সম্মুখে নতুন শপথ নিয়ে।

আমরা পারবো, আমরা করবো জয়,
আসুক যতই বাধা- বিপদ, করবো নাকো ভয়।

সকল বাধা আর প্রতিকূলতার রুদ্ধদ্বার,
করবো দূর, এটাই নবীনের দৃঢ় অঙ্গীকার।

পুরাতনের মাঝে নতুনের বিভীষিকা,
প্রজ্জ্বলিত হোক আমৃত্যুর জীবনদীপশিখা।
          *******



      নতুন করে 
প্রিয়াঙ্কা রায় চৌধুরী সান্যাল 

দগ্ধ চৈত্রের শেষ প্রহরে 
তুমি এসেছো নতুন নাবিকের মতো,
তোমার সর্বাঙ্গে প্রখর যৌবনের তেজ।
বিষন্ন জাহাজের পালে
উদ্দাম হাওয়ার ঢেউ,
অলিন্দে নতুন প্রবাহ।
 

 যুবতীর ডালে ডালে 
প্রস্ফুটিত নব মুকুল,
রক্তিম চাওয়া-পাওয়ার 
ঝাঁপি নিয়ে লুকিয়ে এককোনে,
প্রেমিক  তার উদাস বাউল,
মন -মদিরায় আচ্ছন্ন।

প্রখর তেজে ভস্মীভূতার 
নূপুর জেগেছে অন্য সুরে,
দেহে নবপ্রাণ,
দিকে দিকে ডাক দেয় নতুন প্রভাত।
শাখে শাখে কচি -কাঁচারা,
সবুজ চিকন সাজে।

বয়ে যাওয়া স্রোত ফিরেছে 
নতুন ঢেউ বুকে,
সঙ্গে বয়ে কঙ্কন, মেখলা,
দিবসশেষে বালিয়াড়ির বুকে 
জেগেছে নতুন প্রহর,
উন্মত্ত লহরীর বুকে 
পাল তুলেছে নতুন প্রভাত।।
       ******
কবি পরিচিতিঃ সব্যসাচী লেখক ফারুক প্রধান ১৯৮০ সাল থেকে কবিতা ও ছড়া লিখে আসছেন। তাঁর প্রকাশিত বই "জেগে উঠি নিঃসঙ্গতায়, বঙ্গবন্ধুর জন্য কবিতা, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, ভালোবাসা রেডিমেট।" নাটকের বই  মুক্তিযুদ্ধের পথনাটক ও গানের অ্যালবাম মনের টেলিফোন। কবিতার অ্যালবাম ভালোবাসা বায়না হবে, ভালোবাসার রঙিন ফ্রেম ও বঙ্গবন্ধু। 
নয় ভাই তিন বোন। বাবা মা মারা গেছেন। মরহুম আব্দুল মজিদ প্রধান ও মনোয়ারা বেগম। এক ছেলে স্বচ্ছ প্রধান স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম। সে ১৯৬৫ সালে মাতাইশমঞ্জিল দমদমা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯১৮ সালে দিল্লি মিরোট লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে স্মারক সন্মাননা পান। সব্যসাচী লেখক হিসেবে কলকাতা কলতান ওয়েভস ফাউন্ডেশন থেকে সন্মাননা পান। এছাড়া কবি জসিমউদদীন, লালন, বঙ্গবন্ধু, ছায়ানট ইত্যাদি পুরস্কারে ভূষিত হন।
বৈশাখী ঝড়ো হাওয়া 
    ফারুক প্রধান 

বৈশাখিতে আমের সারি
ঝড়ের বেগে দোলে
কিষানীর চালা থরথর করে
ভয়ে জড়সড় ঘরের ভিতরে
কখন উড়ে নিয়ে যায় চালা
কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়
বৈশাখী ঝড়ো হাওয়া। 

গরুর রাখাল বৈশাখী ঝড়ে
মাঠে নিয়ে বিপাকে পড়ে
হাম্বা হাম্বা ডাক শোনা যায়
ঝড়ের বেগে রাখাল ছোটে।

কিষানী গোয়াল ঘরে 
চালা দিয়ে পানি পড়ে
এক মুঠো নেই খর
কি খাবে গরু গোয়ালে।

কিষাণীর গা ভিজে যায়
রাখালের দিকে চেয়ে চেয়ে
সবাই মিলে এক ঘরেতে
কেমন করে থাকে।

ঝড়ের দিনে কষ্টে থাকে
গরীব কিষাণ খেতমজুর 
একবেলা খাবার জোটে না
মাটির বিছানায় ঘুম আসে না
অনাথ কিষাণী সম্বলহীন
বেঁচে থাকার নেই কোন পথ।
    *******

              বৃষ্টি দাও
          তীর্থঙ্কর সুমিত


আমীমাংসিত হিংসা নিয়ে প্রতিদিন হেঁটে চলেছি
মাথার ওপর খোলা জানলা
সূর্যের রশ্মির সাথে পাথরের যে হৃদ্যতা
কফির কাপে লেগে থাকা পুরোনো চুমুকের ক্ষত 
আজ,
বর্ষা হলে মন খুলে কাঁদা যায়
গাছেদের স্নান দেখে নিজেকে...
দারুন অনিচ্ছার রাজপথে নেমে
মেঘেদের প্রশ্ন করা যায়

শূন্য মুঠোয় একটু বৃষ্টি দেবে?
       ******

কবি পরিচিতি:অধীর কুমার রায় শিক্ষক, কবি ও লেখক। জন্ম মুর্শিদাবাদ। কবি মানুষের জন্য লেখালেখি করেন। প্রথম কবিতা "গোধূলি" ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত হয় 'দৈনালি সাহিত্য পত্রিকা'য়। এরপর তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি, প্রকাশিত হয়েছে একের পর এক কবিতা, ছোটগল্প, অনুগল্প। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বাংলা ভাষার পত্র-পত্রিকায় তিনি লেখালেখি করেন। “রঙে কলমে”, “নীরব আলো”, “সত্তা” “উৎস”  প্রভৃতি প্রথম সারির পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর হাজার খানিক কবিতা। প্রথম কবিতার বই "নীল খামের চিঠি"পাঠক মহলে সাড়া ফেলেছে। তাঁর কবিতার বিষয় প্রেম, নৈতিকতা ও মানবতা। পেয়েছেন “সাহিত্য মানিক্য”  এবং আরও অনেক সম্মাননা। মানুষের কল্যাণে তার কলম এগিয়ে চলেছে।

       বঁধুয়া 

অধীর কুমার রায়।


নদীর ওপারে বঁধুর গাঁ 

চোখের কাজলে আঁকা।

হৃদয়ের ঢেউ উঠে বারবার

নদীর পথ বাঁকা।


ওপার থেকে পাখি আসে

মনে গন্ধ মিশে

পালক রেখে উড়ে যায়

মন কেমনের দেশে।


আবার কবে দেখা পাবো

কবে রথের মেলা।

প্রাণ বঁধুয়া আপন হবে

সাজাই বরণ ডালা।

     *****

কবি পরিচিতিঃ 
সুজন দাশ। জন্মস্থান -বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানার অন্তর্গত উত্তর ভূর্ষি গ্রাম।
লেখালেখি  -বাংলাদেশ ভারত সহ  বিশ্বের বিভিন্ন বাংলা ভাষাভাষী পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লিখে থাকেন। 
প্রকাশিত বই -অন্তর্দৃষ্টি , ক্ষমতার কেন্দ্র, এক মুঠো রোদ্দুর ও ফুলের কাছে পাখির কাছে। 
বর্তমানে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে নিউজার্সির
আটলান্টিক সিটিতে সপরিবারে বসবাস করেন।  

                       নববর্ষ 
                    সুজন দাশ 

নববর্ষের যেই আসে ডাক সকল বাঙালি জাগে,
ভাসায় সবারে মিলনে সাম্যে প্রীতি প্রেমে মন রাগে! 
বাঙালির এটা সবচেয়ে বড় মিলনের উৎসব,
চেতনার রঙে কৃষ্টির ছবি অন্তরে তোলে রব ! 

নতুন আশায় বাঁচার স্বপ্ন আবার সকলে দেখে, 
তাড়ায় হতাশা বেদনার মেঘ সতেজতা নেয় এঁকে। 
জীর্ণতা আর জড়তাকে মুছে প্রেরণার সুরে মাতে,
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মন ভিতরে ভিতরে তাতে । 

ঐতিহ্য খোঁজে পান্তা ইলিশে নতুন পোশাকে শুচি, 
চলে যায় মনে হিংসা বিভেদ অসাম্য যত ঘুচি! 
ব্যার্থতা গ্লানি চলে যায় দূরে আশার আলোকে ভেসে, 
ফলে ফুলে শাখে ডাকে বৈশাখে সুখ ধরা দেয় এসে। 
                  ********


          নববর্ষ 
     রাজকুমার ব্যাধ 

চৈতি বিদায় নিল করুণ মুখে ,
বৈশাখী এল বেশ মনের সুখে ;
তবু মুছল না তো সকল গ্লানি -
স্মৃতি কথায় বেদন লাগে জানি ।

ডালে ডালে কিশলয় নবরূপে ,
কৃষ্ণচূড়া শোভনে লাল অরূপে ;
বাতাসের পরশে মালতী হাসে ,
হৃদি মাঝে কথা গান হয়ে আসে ।

দিকে দিকে ফোটে নতুনকুসুম -
সুবাসে ভাঙে যে ভোমরার ঘুম !
ওরে মন ভুলিও হিংসা বিবাদ ;
ফিরুক সবার চেতনা অবাধ ।

নববর্ষের গাহি গান উজল প্রাণে ,
স্মৃতির বাঁধনে মন বিভোর সুতানে ।
স্নেহ-প্রীতির সাথে আনন্দ বিলিয়ে ,
সুখ খুঁজি দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ।
             ,******


    শুভ নববর্ষ
মনোরঞ্জন ঘোষাল

আবার এল এক বৈশাখ
কত না পাওয়ার বেদনা ভুলিয়ে
নতুন আশা নিয়ে নতুন উদ্দ‍্যমে।
মনের প্রকৃতির আজকের দিন
সেখানে ফাগুন বসন্ত মিলে একাকার
শুধু গোপনে অন্তরে আছে
পাখির মত ডানা মেলে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন।
কত আয়োজন কত ব‍্যাস্ততা
সব আগামীর জন‍্য
নিজেকে ভাল রাখা, ভাল থাকার জন‍্য।
শুধু বিনিময় শুভ কামনা
একরাশ নতুন প্রভাতের দিকে চেয়ে
কান্না ভুলিয়ে দিয়ে শুধু হাসি নিয়ে
আসে ফিরে নববর্ষ।
     *******

লেখক পরিচিতি- 
আমি, শ্রী মৃণাল  বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়,  বর্তমানে একটি  বাংলা মাধ‍্যম  উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  স্নাতকোত্তর  স্তরের গণিতের  শিক্ষক। খুব  ছোটবেলা থেকেই  সাহিত্যের প্রতি অগাধ  অনুরাগ  আজ  আমাকে  আপনাদের  একজন অতি প্রিয় কাছের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি  দিয়েছে। আমার প্রথম লেখা একটি ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হয় আমার বিদ্যালয়ের বাৎসরিক পত্রিকায় যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ রত। গত একবছর সময়ে প্রায় একশ কুড়িটির মত বিভিন্ন ধর্মী পত্রিকা এবং সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আগামী দিনে আপনাদের কাছে আরও সমৃদ্ধ সাহিত্য পৌঁছে দিতে আমি বদ্ধ পরিকর।

           নববর্ষের ডাক  
         মৃণাল বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়।

শীতের শেষে নব বরষে মনের হরষে নতুন প্রস্ফুটনের তরে,
সব শূন্য শাখা প্রশাখা পুনরায় নতুন সবুজে ওঠে ভরে,
নতুন রঙবেরঙের সুগন্ধি ফুলের সমারোহে ভ্রমরের গুঞ্জনে,
মানব প্রকৃতি অন্তরে স্নিগ্ধ অতি ব‍্যস্ত সবে নব‍্য আমন্ত্রণে।
প্রকৃতি মায়ের হাসি দুকান পেতে স্পষ্ট যে যায় শোনা,
ভোরের মৃদু বাতাসে রঙিন ফুলে প্রজাপতির আনাগোনা।
তোরা কেমনতর, মানুষ নাকি যন্ত্র, জেগেও দিস ঘুম?
শুনতে পাসনা মধুর লোভে আসা ওলিকুলের গুনগুন?
দূরের শাখে সবুজ পাতার ফাঁকে গায় যে রসিক পাখি-
আহা!! কি সুমধুর মিষ্টি সুর, তারে হৃদয়ে কোথায় রাখি?
অবিরাম কুহু কুহু স্বরে ডেকেই চলে নেয়না কভু বিশ্রাম,
তোরা সবাই যেন কেমনতর দিসনা তারে কোন দাম।
যেদিন হারিয়ে যাবে সবুজ গাছ হারিয়ে যাবে ফুল ও পাখি,
সেদিন হাজার বুঝেও সব হারিয়ে শুধুই ভিজবে দুই আঁখি।
                             -----×××××-----

কবি পরিচিতিঃ পেশায় ডাক্তার ( রেডিওলজিস্ট ), নেশা কবিতা লেখা। কলকাতায় জন্ম কিন্তু কৈশোর, যৌবন ও মধ্যবয়সের অনেকটা সময় কেটেছে  সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ।

জীবনের অর্ধ শতক জুড়ে কবিতা ও লিটল ম্যাগাজিনের সাথে জড়িত ।
প্রথম প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ " মনজ্যোৎস্না " ।
দ্বিতীয় প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ " প্রতীতি " ।
তৃতীয় একক কাব্যগ্রন্থ " তিন লাইনের কাব্য " (হাইকু) প্রথম খন্ড ।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংকলনে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ।


            সংযম
        উৎপলেন্দু দাস

যতটুকু পাওয়ার ঠিক ততটুকুই চেয়ো 
কী করবে বাড়তি হাওয়া
নীল আকাশে মৃদু হেসে
আনন্দে ডানা মেলে মেঘ হতে দিও ।

যতটুকু দেওয়ার তার বেশি দিও 
কী করবে জমিয়ে অযথা
বাতাসে ভেসে যাবে সব একদিন
একটুখানি ভেবে দেখো প্রিয় ।

লুকিও না হাসি কান্নার উদ্বেল আবেগ
সবই তো ক্ষণিকের 
হে অতিথি লজ্জা কিসের
শুধু সংযত হোক কালবৈশাখী ঝড়ের মেঘ।
             *******


কবি পরিচিতি:
কবি বলার দুঃসাহস আমার নেই। অনেক ধরনের বই পড়াশোনার পর মনে হলে একটা লিখি। বলার চেয়ে শুনি বেশি। মানুষের ভালোবাসা আমার পরম পাওয়া।সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মানুষের কিছু হলে বসে থাকতে পারি না। 

          আজ রাতভর শুধুই অপেক্ষা
                     তপন মাইতি

শোক দুঃখ কষ্ট ব্যথা বেদনা বিরহ বছরভর 
ভুলে ভরা ঝেড়ে ফেলা পাতা ঝরানোর মত গাছ 
তীব্র ঝড়ে শুয়ে পড়া গাছ উঠে দাঁড়ানোর মত 
প্রস্তুতি পর্ব রাতভর সাজিয়ে রাখবার শুভলগ্ন। 
পৃথিবীকে নতুন ভাবে সাজাবে তার ঋতুচক্র 
সেজে উঠবে কল্যাণময় মাঙ্গলিক নতুন সূর্যের আলোয় 
সামনে যত বাধার পাহাড় প্রাচীন প্রাচীর বেড়া থাকুক 
অন্ধকারের দিকে আছে হৃদয় ধ্রুবতারা।
সেই শুভক্ষন সেই ভবিষ্যৎ আজ রাতভর শুধুই অপেক্ষা
কোমর বেঁধে লেগে পড়বার এই তো সুবর্ণ নীল সুযোগ 
বহু ব্যঞ্জনের ভুরিভোজ হালখাতা স্বস্তিকের তিলক
পূর্বপুরুষের মত ঈশান কোনে আগুন জ্বালানোর দিন।
হলুদ পাঞ্জাবী আলতা রঙানো লাল হলুদের শাড়ি 
শঙ্খ উলু ধ্বনি বাজিয়ে উৎসুক মন গীতবিতানে।
                    *******
কবি পরিচিতিঃ
তীর্থঙ্কর সুমিত ১৯৮৯ সালে ১৭ ই মে হুগলী জেলার মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।ছোটবেলা থেকে লেখালিখির সাথে যুক্ত ।মূলত কবিতা লেখেন। পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে তথ্যকেন্দ্র,সুখবর, লটারি সংবাদ, শৈবভারতী,চাঁদের বুড়ি,পারিজাত, কলেজ স্ট্রিট,সাপ্তাহিক দেশ, প্যারিস টাইমস,যুথিকা,উপানশু, প্রসাদ,সহ বহু পত্র পত্রিকায়।নিজ সম্পাদিত পত্রিকার নাম "আহোরী" ,"একালের ছিন্নপত্র"।হাইকু প্রভাকর,কাব্য সুধাকর ,পরমাণু কাব্য সারথি, শরৎ সম্মাননা, পারিজাত সাহিত্য গৌরব, কাব্যকনিকা রত্ন,পারিজাত সাহিত্য ভূষণ,কাব্য ভাস্কর,সাহিত্য দীপক, অক্ষর সোপান কাব্য রত্ন, অক্ষর সোপান কাব্য সাথী,কবি রত্ন, কাব্য সারথি ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত।

    শূন্যের কথা
    তীর্থঙ্কর সুমিত

গাছের নিচে সকাল থেকে দুপুর
বিড়বিড় করতে করতে কত মানুষ
পথ হেঁটে চলেছে
তপ্ত রোদ মাথা ছুঁয়ে
শরীর ছুঁয়ে
একাকি দাঁড়িয়ে
বিষণ্ণতা ঢেকেছে কত মানুষের মুখে
দীনতার ছাপ পথের ধুলোয়

ফিরে আসার গল্প শোনায় বাবা

হেঁটে যাই শূন্যের দিকে
রোদকে স্পর্শ করবো বলে।
     ******
কবি পরিচিতিঃ 
সুপদ বিশ্বাস সিনিয়র শিক্ষক (জীববিজ্ঞান) 
নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শ্যামনগর,সাতক্ষীরা,বাংলাদেশ। 

পহেলা বৈশাখ 
সুপদ বিশ্বাস 

আয়রে খোকা আয়রে খুকি
সূর্য দ্যাখ্ ঐ দিচ্ছে উঁকি 
ঘুমকে ফেলে রাখ্
নতুন সাজে ফিরে এলো
পহেলা বৈশাখ। 

আজকে সকল গ্লাণি ভুলে
সাজাও বাটায় দূর্বা-ফুলে
বাজাও এবার শাঁখ
বরণ করো নতুন বছর
পহেলা বৈশাখ। 

নতুন পোষাক গায়ে দিয়ে 
মঙ্গলযাত্রার র‍্যালী নিয়ে 
খুশির পরশ মাখ্
অতীত ব্যথা ভুলতে এলো
পহেলা বৈশাখ। 
   ******

কবি পরিচিতিঃ 
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ,নেশা সাহিত্যের আসরে বিচরণ । সাংস্কৃতিক আঙ্গিনার প্রতি অদম্য ভালোবাসা ।
কবিতা জীবনের কথা বলে। উচ্চপদে আসীন হয়েও কবি মননে সাহিত্যের পান্থনিবাসে বসবাস করেন ।
দীর্ঘদিন তিনি একটি সাহিত্য সংস্কৃতিমূলক পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন । 
কবি তাঁর লেখায় সমাজের সুখ দুঃখ , হাসি কান্না অবলীলায় তুলে ধরেছেন ।  গ্রাম বাঙ্গলার বিভিন্ন মানুষের মনের কথা এঁকেছেন তাঁর কলমে । প্রায় দুই শতাধিক কবিতা , গল্প তিনি রচনা ককরেছেন 
যন্ত্রের সাথে সখ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েও সাহিত্যের প্রতি তাঁর একাগ্রতা , একনিষ্ঠা , জীবনে চলার পথের সততা , আদর্শবাদ , মানবতা , মানুষের ভালোবাসা তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র । সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর প্রয়াস অনস্বীকার্য ।

বোশেখের ফেরারি মন  

আবার একটি বোশেখ এলো।

ওদের জীবনে পয়লা বৈশাখ নেই,
ওদের চোখে ঘুম নেই,
ওরা কাঁদছে জীবিকার জন্য,
শুধুই নিরাশার হাতছানি।

খিদের জ্বালা সইতে সইতে
পার করে দিল আরো একটি বছর,
আবার নতুন করে নতুন বছর,
এবার কি সইতে হবে কম!
হৃদয় মাঝে ঝলকানি।

ওই যে অভাগী, ও তো ভাগ্যহীনা,
সকাল সন্ধ্যে বাসন মাজা একটানা,
জানে না নতুন বছরে
ভাগ্যের চাকা ঘুরবে কিনা!

ওই যে দুঃখু মিঞা,
দুঃখের সাথে যার ঘর সংসার,
ঝড় রৌদ্রে লাঙ্গল নিয়ে চাষ,
নতুন বছরে
পারবে কি দুঃখকে জয় করতে!
তাইতো ফেরারি মন আনমনা।

ওই যে ডাক হরকরা, দিবাকর
দিবাকরের ন্যায় উজ্জ্বল,
ওর কিন্তু স্তিমিত আলোতে বাস,
পিঠেতে তার অনেক বোঝা,
রৌদ্র,বৃষ্টি,শীত মাথায় করে
হাক দিয়ে যায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে,
ফিরবে কি তার সংসারের ঢেউ পরিবর্তন!

নতুন বছর শেষে বোঝা যাবে
অভাগী, দুঃখু মিঞা,দিবাকরের মতো 
প্রান্তিক মানুষের দিনলিপির ধারাপাত।

মেহনতী মানুষের পয়লা বৈশাখ নেই,
পরিশ্রমের আলোকেই তাঁরা আলোকিত।

কিন্তু ডাক সাইটে নেতার
আজ অফুরন্ত সময়,
ফিতে কেটে উদ্বোধন,
আছে ছন্দে-বন্দে নতুন ভাবে
নতুন বছরের উদযাপন,
সাথে পেট পুজো ও উপঢৌকন।
         ******

       অসহায়
     ঝুমা সরকার

এ কেমন বৈশাখ!
বর্ষবরণের সব উল্লাস ম্লান করে
ছাপিয়ে যায় অসহায়ের আর্তনাদ।
কে জ্বালবে মঙ্গলদীপ?
নতুন বছর যদি এলেই, তাহলে
চারিদিকে এত হাহাকার কেন?

এ কেমন বৈশাখ!
এই বৈশাখে সময় খুবই সংক্ষিপ্ত
এখন আর বাতাস খিলখিল করে হেসে ওঠে না
সন্ত্রাসের নিষ্ঠুর কষাঘাতে
কবেই ভেসে গেছে আবেগের স্রোত
আজ জীবনের দুহাত ভরা শুধুই পিণ্ডের উপচার।

এ কেমন অসহায় বর্ষবরণ!
সাজানো ডালিতে নেই কোন আহ্বানের গান
আছে শুধু তীব্র যন্ত্রণা আর চোখের জলে
বিদায়ের আকুতি।
মিথ্যে মোহের জঞ্জাল সরিয়ে
এসো করতলে জমা করি শিখার আলোটুকু।
           *******

কবি পরিচিতিঃ অনির্বাণ মন্ডল। পিতা-অপূর্ব লাল মন্ডল। মাতা_মিরা মন্ডল। গ্রাম পোস্ট-বেথুয়া ডহরি, জেলা নদীয়া।

               প্রকৃতির ঐকতান
                 অনির্বাণ মন্ডল

সবুজের মাঠে, যেখানে স্বপ্ন উড়ে যায়, রাতে চাঁদের স্নিগ্ধ আভা। প্রতিটি পাপড়ি পুরানো গোপন ফিসফিস করে, নরম ফিসফিস করে, গল্পগুলি তারা ধরে রাখে। 

গভীর উপত্যকা দিয়ে একটি নদী বাতাস বয়ে যায়, যেখানে স্মৃতিরা নীরবে ঘুমায়। পাহাড় লম্বা, মহিমান্বিত, বিশাল, এই প্রাচীন ভূমির অভিভাবক। 

গোধূলির নিস্তব্ধতায়, বিশ্ব শান্তি খুঁজে পায়, 
দিনের বিশৃঙ্খলা যেমন বন্ধ হতে থাকে। 
প্রকৃতির ঐকতান, একটি ঐশ্বরিক গান, প্রতিটি পাতায়, একটি পবিত্র চিহ্ন।

তাই আসুন থামুন, এবং এটি পান করুন, এই সৌন্দর্য যে কখনই ম্লান হবে না।
              ******

 গ্রাম+পোস্ট_হরিনারায়নপুর,
  থানা_নাকাশীপাড়া,জেলা_নদিয়া

                ইস্কুল
          স্বাধীন মজুমদার 

ইস্কুলে যাব মোরা যাব শিখতে এবং পড়তে,
ছাত্র জীবন মধুর জীবন আরও মধুর গড়তে,
ছোট্ট থেকে পড়াকে তাই যে করেছি সঙ্গী,
নেই তুলনা কার সঙ্গে অন্য লোকের ভঙ্গি,

বাবা মায়ের স্নেহ পেয়ে যে করেছে শিক্ষা,
যায় না বৃথা জীবন যে তার সময় কালের দীক্ষা।
কর্মজীবন সুখের হবে শিক্ষা আগে হলে,
ইস্কুলে যাব মোরা সকল কিছু ভুলে।
পড়ার কথা বাবা যখন বলেন একটু রেগে,
আমরা তখন পড়তে যাব বেশি রাত্রি জেগে।
কখনো না সেই পড়াটির মূল্য তখন হবে,
নিজের থেকে ইচ্ছে করে পড়তে যাব তবে।

গুরু মশাই শিক্ষা দেবেন স্কুলেতে গেলে,
মন দিয়ে তাই শিখব আমি অন্য কথা ফেলে।
দুষ্টুমিতে কান দেবো না এই যদি হয় দীক্ষা,
গরবো জীবন ধন্য করে হৃদয় দিয়ে শিক্ষা।
                 *******
কবি পরিচিতিঃ অমরেশ মন্ডল
জন্ম নদীয়ার নাকাশীপাড়া অন্তত হরি নারায়ণপুরে পিতা নৃপেন্দ্র মন্ডল মাতা লক্ষী রানী মন্ডল । এছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা বের হয়েছে সংঘদীপ, অন্যধারা, স্ফুলিঙ্গ।


        অপরাধীর কথা
        অমরেশ মণ্ডল

আজ আমি গুন্ডা বদমাশ ছেলে,
দিবারাত্র কাটছে আজ জেলে।
পরিবারের কথা আজ ভীষণ মনে পড়ে,
দেখা করতে যেতাম যদি আজ ছাড়ে।

উকিল বলেছেন দেবে আজ ছেড়ে,
বিনা কারণে ফেলেছি একজনকে মেরে।
অন্যায় করেছি টাকার লোভে,
জনতা মোর প্রতি আছে খেপে।
অন্যায় কাজ আজ থেকে যাব ভুলে,
পরিবার আজ ভিজছে চোখের জলে।
           ********

কবি পরিচিতিঃদীপক মিত্র।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রাক্তন কর্মচারী, B.Com Pass কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অলোকাভিলা 2, Fourth Floor,  D1,BH-7 Hanapara-Jorakhana, কেষ্টপুর বিধাননগর মিউনিশিপাল কর্পোরেশন 
পি-এস বাগুইআটি, পি-ও কেষ্টপুর , জেলা- উত্তর 24 পরগনা।

 সে কী
দীপক মিত্র 

আমারও কিছু অহংকার করার আছে
বুঝলুম অনেক দেরীতে 
এই একষট্টি বছর বয়সে

"নদীতে স্নান করতে গেলে
 জল হয় স্তব্ধ 
 ফি বছর অষ্টমীর অঞ্জলিতে
দেখি দেবীর চোখে জল"
কেনর প্রশ্ন জাগে
এই ভরদুপুরের মনে আজ

ওরে তোকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাব বলে
গোপন রেখেছিলাম সব
শোন তবে, এ গুলো তোর অহংকার
কথাগুলো কানে আসতে
পিছন ফিরে দেখি-
অসময়ে জোরহাত করে দাঁড়িয়ে আছেন জননী
             ******

  মনি মাণিক্য 
বিশ্বজিৎ সাঠিয়ার 

সময়ের সারণী বেয়ে 
ভেসে আসা দৃশ্যপটরাশি
মনে করিয়ে দেয় অতীত...

জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ 
চলে তার নিজ খেয়ালে
আপন মায়াবী ছন্দে
ঘন্টার তালে তালে।

এসো সুযোগ খুঁজি সময়ের 
আর কুড়িয়ে নিই জীবনপথের
নানান নুড়িপাথর ---
যদি একদিন জ্বলজ্বল করে ওঠে
সব মানিক রতন....
     *****

     মধ্যবিত্ত বাঙালি
      তন্ময় অধিকারী

অভাব,অভিযোগ,অনটন কভু,
            পারেনি করতে আমায় রিক্ত|
গর্বের সাথে আমি বলি তাই,
      আমি ছা-পোষা বাঙালী মধ্যবিত্ত|

মার হাতের দূঃখ সিদ্ধ,
           প্রতিদিন চেটেপুটে খাই|
সংস্কৃতির চাটনি মাখা,
      মোরা বাঙালী মধ্যবিত্ত ভাই|

উদ্যোক্তা মোরা হবনা কক্ষনো,
      আমরা ঐতিহাসিক কেরানী|
অহংঙ্কারের সাথে গর্জে উঠি,
    আমরা বাঙালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী|


মিতব্যায়ী হাসির উপাধি রয়েছে,
               গন্ডার প্রজাতির গম্ভীর|
সভামাঝে তাই বলে যায়,
                  মধ্যবিত্ত বাঙালী বীর|

প্রেম-কামনা থাক বদ্ধ ঘরে,
           প্রকাশ্য না করিব স্বীকার|
মধ্যবিত্ত বাঙালী রূপেতে,
          শ্লীলতার মানসিক বিকার|


গ্রামে থেকেই প্রতিষ্ঠা এসেছে,
        তবু হয়েছে গ্রামের বিস্মৃতি।
শিকড়ের স্মরন নেবনা আর,
      এটাই মধ্যবিত্ত বাঙালি রীতি।
             ******

কবি পরিচিতিঃ ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ এ সময়ের একজন তরুণ কবি ও গল্পকার। জন্ম হুগলি জেলার কামারপুকুর শহরের আনুড় গ্রামে। তিনি বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বীণার তারে'।

একটু মন খুলে হাসতে চাই

 বিশ্বজিৎ ঘোষ 

গরমকালে সমতলীদের কাছে পাহাড়যাত্রার পটভূমিতে ভয় চতুর্দিকে! 
তবুও চোখ তুলে অদেখাকে দেখতে চাই...
একটু মন খুলে হাসতে চাই... 

আমাদের প্রথম দিনের পিটস্পট নৈনিতাল,
গাড়ির থেকে নামতেই মালুম দিল--- 
এক শীতল অতল অবগাহন, যেন শুভদায়িনী শান্তি। 
বুঝলাম এবার পাহাড়ে উঠেছি তবে,
এখানে আকাশ পাহাড়ের গায়ে পড়েছে ভেঙে!
সমতলের যে মনখারাপগুলো বয়ে নিয়ে এসেছিলাম 
এতক্ষণে সেগুলো আছড়ে পড়ল পাহাড়ের গায়ে! 

এবার একটু মন খুলে হাসতে চাই... 
শত অভিমানেও হাসতে চাই... আমি জানি আমার ভালোবাসাগুলোকে নিয়েই আমার ভাবনা।
             ----------
কবি পরিচিতিঃ সৌম্য পাল, পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই থাকি। একজন সাহিত্য কর্মী হিসেবে সাহিত্য চর্চার কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাই। কর্ম সূত্রে হুগলী জেলাতে থাকি। পড়াশুনা ও কলেজ বর্ধমানেই। কবিতা কে ভালোবেসেই কবিতা লিখি।

 পৃথিবীটা স্বপ্নের 
    সৌম্য পাল

দূর থেকে দেখছিলাম --
একটা লাশ পুড়ছিল!
রাস্তার পাশের পাড়ার কোণে!

শবদেহটা উল্টানো কুঁজোর মতো করে,
শোয়ানো ছিল,
চিতার অনলে পুড়ছিল।

পুড়ছিল তবে-
কোনো অভিযোগ ছিল না!
নেই কোনো চিৎকার!
কোনো আবদারও নেই বললেই চলে!
আবার কোনো গর্বও ছিলনা! 
ক্ষমতা?
না কোনো ক্ষমতাও ছিল না!
নেই কোনো বিন্দুমাত্র লোভও !

উনি যে, ধনী না গরীব?
তা জানার উপায় ছিলনা!
উলঙ্গ হয়ে শুধু পুড়ছে, আর পুড়েই চলেছে!

কিন্তু মৃত্যু,
কত শান্তির।
কত নীরবতার।
কত মহত্বের।
ঠিক যেন পৃথিবীর স্বপ্নের মতো।
         *******



লেখিকা পরিচিতি:-
লেখিকা সম্পা সাহা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে বি.এড এ পাঠরত । নিবাস হিলি, দক্ষিণ দিনাজপুর । বর্তমানে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করেন ।




 কোনো এক শ্রাবণ কে
      সম্পা সাহা


তোমাকে দেখলাম আজ, ভিড়ের মাঝে !
নীল রঙের টি শার্টে ;
যেরকম ছিলে, সেরকমই আছ তুমি ? 
বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছিল তোমায় ।
অমন ফর্সা গাল কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তোমার ‌,

 ফাগুনকে আগুন হতে দেখেছিলাম আমি,
 সে আগুন দেখেছিলাম তোমার চোখে ।
অমন সুগঠিত দেহ শক্ত বুক
তোমার জাপটে ধরা , ঠোঁটের মাছরাঙা রুপ চুমু ;
পথের ধূলিকণা ,মাথার উপর সূর্য ,
ভোরের প্রথম শিশির ফোঁটাই তোমার প্রতিচ্ছবি,
সব মিলিয়ে যে তুমি,
 সে আমার একান্ত আপনার জন । 

পুরুষেরা ভালো চোখ খেতে জানে জানো !
তুমি তো পুরুষ অধিক কিছু তো নও
পুরুষ মাত্রই কি স্বাদের ভিন্নতা চায় ?

নিখুঁত শিকারীনির মতো স্বীকার করছি,
তোমার অবহেলায় আমি বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়ছি তোমার অভিমানে হয়ে উঠেছি নিশাচর কবি ।
তুমি তো আমার বর্ণমালা ছিলে শ্রাবণ !
আমি ছিলাম তোমার ধারাপাত ।
তবে কিসের অভিমানে অভিযোগে এমন করলে তুমি ??

জালবোনা  রোদ কাদা জল পুকুরের পাশে
সাদা বকের মতো বসে আমি ফাগুন বালিকা ।
শিমুল -পলাশ-অশোক কৃষ্ণচূড়ার, মাঝে থেকেও আমার শহর আজ ফ্যাকাশে ।
       ********

কবি মহাদেব সরকার 

           বাস্তব এ মানব জীবন

               মহাদেব সরকার( সভাপতি)

জীবন কি! এর ব্যাখ্যা দেওয়া নয়কো সম্ভব!

Diary টার এই ছোট্ট পাতায় এ-কে বোঝা সত্যি, খুব অসম্ভব!

এই জীবনে রয়েছে এক গাদা দুঃখ, সঙ্গে কিছু সুখের ছোঁয়া

মিলিয়ে মিশে মোরা যেন অগোছালো আগুনের ধোঁয়া!

মায়ের গর্ভ থেকে শুরু করে শশ্মান যাত্রা এর আয়ু, 

চলার এই মাঝপথে বন্ধু- বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের কিছু মুগ্ধ বায়ু!

কেউ উপভোগ করে একে অর্থের বিনিময়ে,

কেউ বা আবার করে কিছু পাওয়ার অভিনয়ে!

কেউ নেই এর মজা শুধুই খুশিরও বাঁধনে,

কারো কাছে এ থাকে আবার দুঃখের বাগানে!


জানি নাকো মোরা, কখন যে যাবে চলে এই জীবন,

তবে জানি এ ভরিয়ে তুলবে এক মুহূর্তে নতুন আরেক জীবন!

জীবন, জীবন, জীবন তুমি সত্যি বড়ো অদ্ভুত!  

তোমার বাস্তব বড়োই নিঠুর, তবু মন জয় কর বহুত!

তোমাকে নিয়ে চলতে চাই, তাইতো মনে গাঁথে স্বপ্ন,

বাস্তবতা ভেঙ্গে চূর্ণ করে যত মলিন সব স্বপ্ন!

জানি মোরা তোমার চিরন্তর সত্য,

হাঁসি কান্নার মাঝেই তোমার বক্তব্য।

তুমি রও ক্ষনিকের জন্য মোদের হৃদয়-প্রাণে,

তবুও তোমারই গুণগান গেয়ে যায় মোরা সুখের ও টানে!


বেশি তুমি দাওনা উপভোগ করতে তোমার এই জীবন, 

অফুরন্ত চলার পথে দিচ্ছো অনেকেরেই মরন!

সাক্ষাতে যেদিন পাবো তোমার দেখা, 

দয়া করে বুঝিয়ে দিও তোমার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা!

তুমি শেষ, তুমি শুরু সবই রয়েছে তোমারই হাতে,

হে জীবন, সকলকে টিকিয়ে রেখো তোমার এই

সুখ দুঃখের পথে!

                ********

কবি পরিচিতিঃ নাম প্রদীপ মন্ডল। ১৯৯৬ খ্রীঃ ১৩ই ডিসেম্বর মালদা জেলার অন্তর্গত চকবাহাদুর পুর নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত দীনেশ মন্ডল ও মাতা মেনকা দেবী। লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে প্রুফ সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানীয় বিভাগে স্নাতকোত্তর হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-"আরশি ভাঙা জানালার পাশে","হৃদয়ের আরমান"," মাগো তুমি" প্রভৃতি কবিতা প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন যৌথসংকলনে কবিতা প্রকাশ-"কাঁচের জানালা" প্রভৃতি। ছোটগল্প-"মা","অসমাপ্ত প্রেম","হোস্টেল, স্বপ্নের ধ্বস প্রভৃতি , প্রবন্ধ-"সমাজ ধর্ষকের বিরুদ্ধে" মুক্তি পেয়েছে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ -"পুরোনো স্মৃতির ভিড়ে"। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন-সনেট, আগডুম বাগডুম, অচিনপাখি, বর্ণকোষ প্রভৃতি।২০১৮ সালে মুকুর শারদ সম্মান ও মুকুর সাহিত্য সম্মান পেয়েছেন। লোকগীতি বাউল শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।বর্তমানে বেসরকারি স্কুলে কর্মরত ও সঙ্গদীপ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক।


একদিন ঘুম ভেঙে যাবে
প্রদীপ মন্ডল(সম্পাদক)

ক্লান্তির মাঠে হাঁটতে হাঁটতে ঝুলন্ত বারান্দায় এসেছি;
আঁতুর ঘরের বেদনার মাটিতে কবিতা লেখার গন্ধ পাই;
দুর্বল দুপুরে নব্যজাতের নিস্তব্ধ ঘুম,
অসুখের অক্ষরে অক্ষরে জড়িয়ে আছে মৃত্যু;
কুয়াশা মুখে সাদা হয়ে গেছে দিন কাল,

কামনার কাঁসর ঘন্টা অসুস্থ সিঁড়ি বেয়ে বিকেল ঝিমিয়ে উঠে;
গ্রহের পূর্ণ গ্রাস ভ্রু যুগল গিলে খায়;
বন্দরে ফিরছে শরীর নীলাভ সূর্যের আলাপচারিতায়;
আঙুল ডুবিয়ে ক্ষীর খাই অন্ধকার গভীর রাতে,
পালকের মৈথুনে ময়ূরী স্নান করে,

বিশ্রামের বিছানায় জীবন জুড়ে স্বপ্নের পিঁড়ি খেলে যায় নিত্য;
সমাধির পাশে বসে একগুচ্ছ কবিতা লিখি;
ইচ্ছে শক্তির বিরুদ্ধে তোমাকে গান শুনাচ্ছি,
সাজানো অতীত গলা টিপে হত্যা করতে চাই;

ঘুম ভাঙার হুইসেল বাজে ভোর চারটায়;
জেগে দেখি কেউ নেই, আসলে সব মায়া,
তবুও আমরা উড়তে চেষ্টা করি সবুজ বাড়ির কালো শহরে,
আমাদের মৃত্যু আছে, স্বপ্নের মৃত্যু নেই,
একদিন ঘুম ভেঙে যাবে -----------
                  ________


অনুবাদ কবিতা 

পরিচয়:
পূজা আচার্য শোণিতপুর, অসমের যুব কবি। কবির একটি কবিতার বই 'অনুহার ভিত্রকো অনুহার' প্রকাশিত রয়েছে।

মাদারিহাট, ডুয়ার্সের কবি বিলোক শর্মা নেপালি ও বাংলা দুই ভাষাতেই লেখালেখি করেন।‌ কবির‌ নেপালিতে একটি কবিতার বই ও বাংলায় দুটো অনুবাদের বই প্রকাশিত রয়েছে

(নেপালি কবিতা)

             উপহার
          -পূজা আচার্য
           -অনুবাদক: বিলোক শর্মা



বুড়ো পালকটিকে মাটিতে ফেলে দিয়ে
দিনগুলো ডানা উচিয়ে উড়ে চলেছে

জং ধরা বুড়ো আলমারির দরজায়
শব্দ বেরোনো শুরু করেছে
ঘরের দেওয়ালে ঝুলানো ঘড়ির সৌজন্যে
সময় ব্যয় করা সহজ হয়ে উঠেছে
তোমার দেওয়া উপহার সেই ক্যালেন্ডারে গুনে চলেছি
মাসে-মাসে বেরিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠাদের-
দারুনভাবে কেটে যায় সময়

ঠিক শেষ দিন এসে হাজির হল
এবার ছুঁড়ে ফেলব সেটাকে

হ্যাঁ!
এবারও এরকমই অমূল্য কিছু উপহার দিও
যাতে অন্তিম দিনের হিসেবটা রাখা যায়।

                      *****

গল্প , অণুগল্প ও ছোটোগল্প 

              লজ্জাবতী
        গোপীনাথ সূত্রধর

বিপাসা প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা শুরু করে।কেন না সামনেই মহামায়ার পূজা, তাছাড়া তার যে নিত্য-নতুন চুড়িদার গুলো রয়েছে সবই যেন খুব আঁটসাঁট। এদিকে সংসারের প্রচুর কাজ,তা সত্ত্বে সে সব কিছু সামলে এই অবসর সময় টুকু বের করেছে। অবশ্য তার স্বামী রমেশ এ বিষয়ে একশো ভাগ ই  তাকে সমর্থন করে এবং উৎসাহ দেয়। শুধু তাই নয় তার স্বামী ও তাদের শিশুপুত্র সহ বাইক করে তাদের বাড়ির সামনে বিমান নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনই উপস্থিত হয় সান্ধ্য-ভ্রমণে।

বিমান নগরীর রাস্তার দু'পাশ জুড়ে মায়াবী সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। কোথাও নালাবাহিত জলের কুলু কুলু রব, কোথাও বা উড়ে যাওয়া মালাসদৃশ সারিবদ্ধভাবে শুভ্র বকেদের আকাশ ছোঁয়া উড্ডীনতা, এবং সারা রাস্তার দু'ধারে ধবল‌ কাশ- ফুলের সমারোহে  হারিয়ে যায় তাদের ক্লান্ত মন। কোলাহল হীন এই রাস্তায় যেতে যেতে রমেশ তার শিশু পুত্রের অলীক প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে কখন যে রূপ সাগরে ডুবে যায় ,থাকে না মনে। এদিকে পথের ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট কত রঙ-বে-রঙের ঘাস ফুল এবং বিচিত্র সব প্রজাতি ও ফড়িং -এর উল্ফন, কেন্নোর গজগমন রূপচলন,পড়ে থাকা অর্ধমৃত সাপের আর্তনাদ,রমেশ ও তার শিশু পুত্রের মনে সৃষ্টি করে অলীক কৌতুহল। পরক্ষণেই অনেক জায়গা জুড়ে থাকা ছোট্ট ছোট্ট পাতা যুক্তগাছে শিশুটির পড়ে হাত। হাতের স্পর্শে পাতার স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুর ভয়ার্ত দৃষ্টি ও উল্লাস ভরা কন্ঠে প্রশ্ন-- বাবা,বাবা, আমি হাত দেওয়াতে এই গাছের পাতা কেন বন্ধ হয়ে গেল বাবা?  এটি কী গাছ?রমেশ প্রমাদ গুনে, তার ছোটবেলার স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা ভেসে উঠে নির্নিমেষ নয়নে আর শিশু পুত্রের প্রশ্নের প্রত্যুত্তর স্বরূপ বলে উঠে বাবা রে ,এটা যে লজ্জাবতী গাছ।
            ********

                     বন্ধু
        বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী


প্রীতম যেদিন অসুস্থ হয়ে প্রথম কলেজ কামাই করে হঠাৎ সেদিন অনিন্দিতা হোয়াটসঅ্যাপ করে , " কি হলো প্রীতম কলেজে এলে না কেন ?
আজকে সৌগন্ধ স্যারের ক্লাসটা মিস্ করলে কিন্তু। ঈশ্বর কণার ওপর একটা দারুণ লেকচার ছিলো । আজকে ক্লাসে ম্যাক্সিমাম স্টুডেণ্ট অ্যাটেন্ট করেছিলো । আমি তোমাকে খুঁজে ও পাইনি । বিনয়েশ বলল তোমার বাড়িতে ফোন করেও কোন সাড়া পায়নি । কি হয়েছে তোমার প্রীতম ? "

প্রীতমের শরীরটা সকাল থেকেই ম্যাজম্যাজ করছিলো । সকাল আটটার সময় ওর মা নন্দিতা চায়ের কাপ এনে দেখেন প্রীতম শুয়ে আছে তখনোও । কিন্তু সে বেলা আটটা পর্যন্ত শুয়ে থাকার ছেলে নয় । কি হলো প্রীতমের ? 

নন্দিতা প্রীতমের কপালটায় হাত দিয়ে দেখলেন , ছ্যাক করে উঠলো যেন । প্রীতমের ডান হাতে ধরা মোবাইলটায় তখনও হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্কগুলোর মধ্যে অনিন্দিতার লিঙ্কটাতে ওর আকর্ষণীয় এবং বাহারি মুখের সুসজ্জিত ছবি ফুটে আছে। ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় । লিঙ্কটা দেখে নিয়ে সবেমাত্র বন্ধ করে দিয়ে চোখজোড়া বন্ধ করে পড়ে আছে বিছানায় প্রীতম । 

নন্দিতা কপালে হাত ছোঁয়াতে প্রীতম মা' র হাতটা আরও চেপে ধরে জানতে চাইলো , " কেমন দেখলে ম্যাম ...... টেম্পারেচার বেড়েছে ?  "

নন্দিতা উদ্বিগ্ন গলায় বললেন  ,  " সেই আবার জ্বর বাধিয়ে বসে আছিস । বলেছিলাম এখন একটুও জলে ভিজবি না । তবুও আমার কথা শুনলি না প্রীতু । কে যেন তোর ওই সদ্য আলাপ হওয়া গার্লফ্রেন্ড। "

প্রীতম দুহাত মুঠো করে মাথার দুপাশ দিয়ে টান করে দিতে দিতে বলল , " অনিন্দিতা , অনিন্দিতা রায় । আমার ক্লাস মেট প্লাস ফ্রেন্ড । " 

প্রীতমের মুঠো দুটো আঙুল মটকানোর মট্ মট্ আওয়াজ করে উঠলো । অর্থাৎ জ্বরটা বেশি এসেছে । তবে তা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। ওষুধ খেয়ে নিলেই সেরে যাবে।

নন্দিতা চায়ের কাপ প্লেট ঠক্ করে নামিয়ে রাখলেন প্রীতমের বেডের মাথার কাছের ছোট্ট একটা টি টেবিলে । 

প্রীতমের হাতে মোবাইল ফোন। এইমাত্র সে হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্কগুলো স্ক্রল্ করতে করতে অনিন্দিতার লিঙ্কটা বের করে চ্যাট করতে যাচ্ছিলো ।

প্রীতম ভাবছিলো জ্বরের ঘোরে সে আজকে বুঝিয়ে দেবে অনিন্দিতাকে শরীর খারাপ করলে মানুষের  যেভাবে রিঅ্যাক্ট করে তা যে সহ্য করে সেই প্রকৃত বন্ধু । এই অবস্থায় সৌগন্ধ স্যারের ঈশ্বর কণা কিভাবে নেওয়া সম্ভব । 

হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্কে অনিন্দিতাকে চ্যাট করলো প্রীতম " বিনয়েশ যখন ফোন করে তখন আমি জ্বরের ঘোরে প্রায় বেহুঁশ । রিং টোন শুনতেও পাইনি । এই একটু আগে মিস্ কল দেখলাম বিনয়েশের । ফোন করেছে ভালো লাগলো । সৌগন্ধ স্যারের ঈশ্বর কণার ওপর ডেলিভ্যারড্  লেকচারটার ভিডিও তুমি করেছো নিশ্চয়ই । "
লিখে পাঠিয়ে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করলো প্রীতম । জবাব একটা দেবে অনিন্দিতা । অসুস্থ মানুষকে ওরা আবার অবজ্ঞার চোখে দেখে না তো ? অ্যামেজিং কম্পানিয়ন ইজ নট দ্য অলটাইম কম্পানিয়ন । সো হোয়াট ইজ দ্য রিঅ্যাক্ট ? 
মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্কে প্রীতম অনিন্দিতাকে মিস্ করলো । তাহলে অনিন্দিতা বোধহয় প্রীতমের জ্বরের প্রকোপ শুনে ঘাবড়ে গিয়ে কি জবাব দেবে বুঝে উঠতে পারছে না ।  প্রীতম অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো । একই সাথে আশা হতও । 

এক ফাঁকে প্রীতমের মা একটা থার্মোমিটার নিয়ে প্রীতমের বাঁ হাতটা শার্টের ভেতর থেকে বের করে বগলে ঢুকিয়ে দিলেন আলতো করে । প্রীতম হ্যাঁ হুঁ  কিচ্ছু করলো না । জ্বরো রুগির যা হয় তেমন নিঃশব্দে মা নন্দিতার মুখের দিকে চেয়ে রইলো । 

এই মায়ের মুখখানায় যে ব্যাথাতুর হৃদয় নিংড়ানো প্রবল আশা নিরাশার লুকোচুরি খেলছিলো তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না । প্রীতম ভাবছিলো আজ যদি নন্দিতা পাশে থাকতো তাহলেও নিজের মায়ের মতো এমন বন্ধু হতো কি ? 
অনিন্দিতা তো প্রীতমের জন্য এটুকুও করতে পারতো । বিনয়েশ যদি বন্ধুত্বের খাতিরে নাও করে , অনিন্দিতা তো সৌগন্ধ স্যারের ঈশ্বর কণার ওপর ডেলিভ্যারড্ লেকচারটার ভিডিও করে পাঠাতে পারতো প্রীতমের জ্বরের জন্য অ্যাবসেন্টের কারণে । নাকি কলেজের ভেতরে প্রফেসরদের লেকচার ভিডিও করার কোন আগাম পারমিশন নেওয়া অনিন্দিতা ইমপরট্যান্ট্ মনে করে নি । 

এই ত্রাহ্যস্পর্শ বিহ্বল মূহুর্তে মা- কেই প্রীতমের প্রকৃত বন্ধু মনে হলো ।  কেন গতকাল কলেজ আওয়ারের পর প্রবল বৃষ্টিতে নিজের ছাতাটা অনিন্দিতার হাতে তুলে দিয়ে নিজে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বলেছিলো , " বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালোই লাগে । তাছাড়া তোর জন্যে একটু ভিজব না অনিন্দিতা ..... বন্ধু হিসেবে এটুকু তো করতেই হবে । " 
অনিন্দিতা হেসে কৃতজ্ঞতায় গলে গিয়ে এমন একটা ভাব করে ছাতাটা নিয়েছিলো যেন কৃতার্থ হয়ে গেছে । প্রীতমের চেয়ে ভালো বন্ধু বুঝি ইহজগতে তার আর কেউ নেই । বলেছিলো , " ছাতাটা  এমন একটা বৃষ্টির দিনে তোর মাথায় ধরব যে তুই বুঝতে পারবি আজকের দিনে তুই আমার কি উপকার করেছিস । " 
তখন পর্যন্ত বন্ধুত্বের ডেফিনিশনটা প্রীতমের কাছে ক্লিয়ার ছিলো না , এইটাই যা আক্ষেপ প্রীতমের । ক্লারিফায়েড করে দিলো মা ।
         ********


লেখিকা পরিচিতিঃ আমার নাম - রিয়া জানা।বয়স -২২.আমি বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে M.A করছি বাংলা অনার্স নিয়ে। আমার বাড়ির ঠিকানা - গ্ৰাম-উত্তর সাপমারা,পোষ্ট অফিস -বৈঁচবেড়িয়া,থানা-উস্থি,পিন - ৭৪৩৩৭৫, দক্ষিণ ২৪ পরগনা।এটি আমার প্রথম কোনো পত্রিকায় পাঠানো গল্প। কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 

                        কালবৈশাখী
                          রিয়া জানা
               
   ২৫ শে বৈশাখ উপলক্ষে শান্তিনিকেতনের 'সৃজন' অনাথ আশ্রমটিতে একটি ছোটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতাতে অফিসের কাজ আর পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে ওঠা বছর ৪০ এর অবিবাহিত সৃজন রায় একটু অবসর পেয়ে চলে এসেছে শান্তিনিকেতন।

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন সকাল সকাল বেড়িয়ে পরেছে সৃজন প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মেলে ধরতে। চারিদিকে এতো স্নিগ্ধতা, মনোরম পরিবেশ ... এসবের মাঝে অনেক দিন পর সৃজন নিজের যন্ত্রনা থেকে একটু বিশ্রাম খুঁজে নিল। ঘুরতে ঘুরতে সৃজন পৌঁছালো সেই অনাথ আশ্রমটিতে। আশ্রমের নামটি দেখে একটু অবাকই হল সে।এক মুহূর্তের জন্য মনে হল আশ্রমের নামটি যেন কেউ তারই স্মৃতির উদ্দেশ্যে রেখেছে। পরমুহূর্তেই এমন বোকা ভাবনা মাথায় আসাতে খুব হাসি পেল‌ তার,এমন অচেনা জায়গায় কে তার কথা স্মরণ করবে একথা ভেবে।

অনুষ্ঠান শুরু হলে আশ্রমের ছোটো ছোটো শিশুগুলোর সাথে আনন্দে মেতে উঠল সৃজন। অনাথ শিশুদের আনন্দের মাঝে নিজের জীবনের হারিয়ে যাওয়া সুখটাকে একটু খোঁজার‌ চেষ্টা করছিল সে। তাদের নাচ,গান, আবৃত্তি এসব নিয়েই এগিয়ে চলছিল অনুষ্ঠান।

হঠাৎ একটা গাড়ি এসে আশ্রমের সামনে থামতেই শিশুরা সেইদিকে ছুটে গেল। আশ্রমের মালী রামনাথবাবু জানালেন যিনি এসেছেন তিনি এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠাত্রী।  বছর দশেক আগে এখানে এসে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ভদ্রমহিলা  একাই থাকেন, এখানকার এক কলেজের অধ্যাপিকা, আর এই অনাথ শিশুদের অন্নপূর্ণা। ভদ্রমহিলার পরিচয় জেনে এই অচেনা মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধায় মনটা ভরে‌ ওঠে সৃজনের।সে ভাবে একদিন সময় করে ভদ্রমহিলার সাথে‌ আলাপ করবে।

অফিস থেকে একটা জরুরী ফোন আসাতে বাগানের দিকে বেড়িয়ে গেল সৃজন। এদিকে অনুষ্ঠান আবার শুরু হয়েছে। মঞ্চে গান গাইতে শুরু করেছেন এক মহিলা। সেই অতিপরিচিত কন্ঠস্বরটি সৃজনের কানে ভেসে আসাতে মুহূর্তের মধ্যে একটা শীতল শীহরন বয়ে গেল তার সমস্ত শরীর জুড়ে।ফোনটা ওখানে ফেলে রেখেই মঞ্চের দিকে ছুটে চলল সৃজন। মঞ্চে তখন গান গাইছে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তার হৃদয়ের অন্তরালে থেকে তাকে উত্তাল করে রেখেছিল যে মেয়েটি, যার আত্মসম্মানবোধ এতো প্রখর যে সৃজনের পরিবার তাদের ভালোবাসা মেনে না নেওয়ায় আর ফিরে যেতে চায়নি , তার অভিমানের স্রোত এতো তীব্র যে ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে হারিয়ে যেতে দুবার ভাবেনি ,এ সেই মেয়েটি.... রীতি আর আশ্রমের শিশুদের সেই অন্নপূর্ণা।

রীতিকে এতোদিন অনেক খুঁজেও পায়নি সৃজন। এতো বছর পর তাকে দেখে মঞ্চের সামনেই স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে পড়েছে সে। রীতি তখনও গান গাইছে.....
      “কেটেছে একেলা বিরহের বেলা,
        আকাশ কুসুম চয়নে......"
হঠাৎই সৃজন রায় কে মঞ্চের সামনে দেখে রীতির কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেলো। তার মনের উত্তাল ঝড় তখন চারিদিক এলোমেলো করে চলেছে। অজানা কোন ভয় যেন তার হৃদয়ে পুস্পবৃষ্টি হয়ে ঝরতে শুরু করেছে।বাক্যহারা হয়ে সৃজনের দিকে তাকিয়ে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে পড়েছে রীতি, দুচোখ বেয়ে তার সেই পুস্পবৃষ্টি ঝরে পড়ছে।বাধ্য হয়েই পড়ের লাইনটি সৃজন গাইতে শুরু করল .....
      “ সব পথ শেষে মিলে গেলো এসে
         তোমার ও দুখানি নয়নে....."

অনুষ্ঠান শেষে হলে বাগানে কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সৃজন ও রীতি। ততক্ষণে বৃষ্টি নেমেছে মুসলধারে।দশ বছরের অভিমান আজ বৃষ্টির ধারা স্রোতের টানে ভেসে চলেছে অনেক... অনেক দূরে। প্রকৃতি ও তাদের মিলনের খুশিতে কালবৈশাখীকে আশির্বাদ স্বরূপ প্রেরন করেছে তাদের মনের কালবৈশাখী ঝড়কে থামানোর জন্য। বৈশাখের বৃষ্টির মতোই স্বস্তি নেমে এসেছে সবখানে।।।
                  *******

                   ক্ষমা করো
                   জিনিয়া কর

স্রোতের বিপরীতে চলতে চলতে আজ অরনী যেখানে পৌঁছেছে সেখানে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্তটা নেওয়াই যায়। আজ খুব সহজ আর স্বাভাবিক সম্পর্ক তর্পনের সাথে । তবুও কোথায় জানি একটা দ্বিধা, কোথায় যেন একটা মানসিক টানা পোড়েন অরনীর.....
অরণী উঠে গিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়ায় । চারতলা ফ্ল্যাট বাড়ির ব্যালকনির নিচে নিশ্চল পথে চলমান যানবাহন। যেন সময়....
কত বছর আগে এই ফ্ল্যাটটা কিনে সম্পূর্ণ নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার শুরুয়াত? হ্যা তা বছর বিশেক তো হবেই। রাহুলের ই তো এই বছর বাইশ পেরিয়ে গেল।বাইশ না? ইস্ এখনও চোখে ভাসে অরনীর। প্রায় মর মর শিশুটাকে ডাস্টবিন থেকে তর্পণ তুলে এনেছিল হাসপাতালে । তখন কে জানতো কারোর ভুলের ফসল যে আজ অরনীর বুকের ধন হয়ে যাবে। সত্যি সময়ের ভাঁজে ভাঁজে কি যে লেখা থাকে মানুষের জীবনে! নইলে অনিরুদ্ধর সাথে এত বছরের প্রেম, বিয়ে..... সবকিছু একটা মাত্র রিপোর্ট তছনছ করে দিতে পারে?হয়তো বন্ধ্যাত্বর দায় মাথায় নিয়ে ভেসেই যেতো অরনী, হয়তো শেষ করে দিতো নিজেকে, যদি না চালচুলোহীন সমাজের চোখে অপদার্থ তর্পন পাশে থাকতো সেই সময়।
আজকে জীবনের এই সন্ধিক্ষণে অরণীর মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। মায়ের ফোনের ওপারের মানুষটার কথা জানা হয়নি কোনোদিন। আসলেই জানা হয়নি? নাকি আভিজাত্য আর সামাজিকতার সংষ্কার মাথায় নিয়ে মায়ের মনের কথা জানতেই চায়নি অরনী।মা দিনরাত সংসারের জোয়াল টেনে সন্ধ্যায় ছাদের কোনায় গিয়ে নিভৃতে বসতো ফোন কানে নিয়ে। কি কথা বলতো ওরা কে জানে! কখনো গুন্ গুন্ করে গান গাইতো। ওইটুকু সময়ে চিরকালের মলিন শ্রীহীন মায়ের মুখটা তখন উজ্জ্বল হয়ে উঠতো । খুব রাগ হতো অরনীর । যে মানুষটা দুনিয়ায় নেই, তার ওপরে করুণা করে , যে আছে, তার ওপরে হিংস্র হয়ে উঠতো অকারণ । মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ের মুখে হাজার ওয়াটের জ্বলে ওঠা বাতিটা নিভে যেত দপ্ করে।
     অরনীর ফোনে রাহুলের কলিংটা, তৃতীয় বার বাজছে। ফোন তুলতেই হই হই করে ওঠে ছেলেটা। মা,কাল রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার সময় তর্পণ কাকুর দেওয়া শাড়িটাই পড়বে কিন্তু। আমি কাকুকে কনভারসেশন কলে নিচ্ছি।
তর্পন ফোনে, সুর করে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে,
 দীর্ঘ পঁচিশটা টা বসন্ত যে,
আছি তোমারই পথ চেয়ে 
 কাল মধুবনে বাজবে নূপুর 
উজল হবে হৃদয়, প্রেমেরই জোৎস্নায়।
ঠোঁট টিপে হাসে অরনী , কিন্তু দুচোখ জলে ভরে ওঠে।
দূরে, আলোর মালায় যেনো স্পষ্ট হয়ে ওঠে মায়ের থান পড়া মলিন মুখটা । মায়ের উদ্দেশ্যে মনে মনে হাত জোড় করে অরণী, ক্ষমা করো মা..... তোমার মেয়ে তখন তোমাকে কারোর সাথে ভাগ করে নিতে চায়নি, কিন্তু এটা বোঝেনি ওর অজান্তে ই জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার মন ক্ষণে ক্ষণে ভেঙ্গে ভাগ ভাগ হয়েছে অবিরত।
                       *****

                   যোনি 
             আশরাফ চঞ্চল

শায়লা, ময়মনসিংহের পতিতা পল্লীর সবচেয়ে আধুনিক ও শিক্ষিত একটা মেয়ে।অনিন্দ্য সুন্দরী। একহারা গড়ন।লম্বা ও স্বাস্থ্যবতী। প্রথমা চাঁদের মতো  বাঁকানো গ্রীবা।মাথা ভর্তি লম্বা চুল। সুউচ্চ নাক। উঠতি বয়সের মেয়েদের মতো টানটান বুক। ক্যাটরিনা কাইফের মতো নাভি ও কোমর। চায়না মেয়েদের মতো মাংস বহুল ভারী নিতম্ব।সব মিলিয়ে সে একটা গ্রিস দেবী ভেনাস যেনো কিংবা মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা! আহা,কী যে অনন্য রূপবতী! এমন মেয়ে হাজারেও মিলেনা একটা। 

আট বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে শায়লার নিজ মুখেই শোনেন আজকের এই শতভাগ অন্য রকম ভালোলাগার মতো গল্পটি 'প্রতিদিন  কত ধরনের খদ্দের যে আসে! বুড়া থেকে শুরু করে উঠতি বয়সের কিশোর, রাস্তার টোকাই, রিকশাঅলা,কামলা,মুচি,মেথর,ছাত্র, শিক্ষক,     মৌলভী, পাদ্রী, ঠাকুর, সাংবাদিক ,পুলিশ, ডাক্তার, আর্মি,মেম্বার,চেয়ারম্যান, এমপি,মন্ত্রীও বাদ যায়না। এই কাজে জাত-পাত নেই। পুরুষের চেম খাড়াইলেই পাগলা কুত্তার মতো দৌড়াতে দৌড়াতে চলে আসে।আমার তো দরকার টাকা। তাই আমার কাছে মন্ত্রী মেথরে পার্থক্য নেই। প্রথম প্রথম অবশ্য ঘিনঘিন  লাগতো। কিছু কিছু মানুষের আচরণে বমি আসতো। এখন সব সয়ে গেছে।

বেশি টাকা পেলে নেকেট ছবির দৃশ্যের মতো লিঙ্গ চুষতেও দ্বিধা করিনা।মোবাইল মানুষের মাথা খাইছে। মোবাইলে নেকেট ছবি দেখতে দেখতে পুরুষগুলো খুব নিচে নেমে যাচ্ছে। বর্তমানে আশি পার্সেন্ট খদ্দের এসেই বলবে 'এ্যাই, চাটাচাটির রেট কতো?'
একবার  তো হইছে কী, এক ভদ্র যুবক এসে বললো, 'আমি তোমার যোনি চাটতে থাকবো, অনেকক্ষণ চাটার পর তুমি সেক্সের তাড়নায় আমার মুখে প্রশ্রাব করে দিবে, আমি অবিকল কুত্তা, ষাঁড় কিংবা ঘোড়ার মতো যোনিতে লেপ্টে থাকা প্রশ্রাব চেটে চেটে খাবো।’ ওই ছেলের এরকন কথায় সত্যি সত্যি আমার শরীরে অন্যরকম শিহরণ  খেলে গেলো। আমি ওর কথা মতো তাই করলাম। অনেকদিন পর সেক্স করে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেলাম।

আমি লেখাপড়া জানা মেয়ে। স্বাস্থ্যের বিষয়েও বেশ সচেতন। পুরুষদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রতিদন স্তন উরু ও নিতম্ব ভরাট রাখতে বিদেশি জেল, ক্রিম ও লোশন লাগাই। আকর্ষণীয় ফিগার থাকার কারণে খদ্দেরেরা ঘুরেফিরে আমার কাছেই আসে। আমিও স্ত্রীর ভূমিকা  নিয়ে তাদের আনন্দ দিতে চেষ্টা করি। কোন কাজই ছেট নয়। মন দিয়ে কাজ করলে যে কোন কাজেই সফল হওয়া যায়। আমার জায়গা থেকে আমি এখন পুরোপুরি সফল।প্রতিদন আমার ইনকাম দশ থেকে পনের হাজার টাকা। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি থাকায় কাস্টমারের কাছে একটু আবদার জানালেই আগের চেয়ে কিছু বেশি টাকা দিতেও আপত্তি জানায়না। আর নিন্ম শ্রেণির কাছ থেকে এমনিতেই আমি বেশি নিইনা। ফলশ্রুতিতে আমি তাদের কাছে দেবীর মতো পূজনীয়। তুই তুকারি করবে তো দূরের কথা ওরা কেউই আমাকে আপা ছাড়া ডাকেনা। এটা কম সম্মানের না।আমি প্রতিদিনই দেখি অন্যসব মেয়েদের সাথে খদ্দেরা তুই তুকারি করে কথা বলে। কতো ঝগড়া ঝাটির সৃষ্টি হয়। হৈ-হুল্লোড়ের অন্ত থাকেনা।

এই পল্লীতে আমার আলাদা একটা সুনাম আছে। আমি সুন্দরীর পাশাপাশি পল্লীর অন্যান্য মেয়েদের মতো খদ্দেরের পকেটে কখনোই হাত দিইনা। বিশ্রী ভাষায় গালি দিইনা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী  কাজ করতে চেষ্টা করি। কম বয়সের ছেলেরা  এসে তো এক দুই ঠেলা দেয়ার আগেই মাল আউট করে ফেলে। তখন ওরা খুব লজ্জা পায়। আমি লজ্জা না দিয়ে বলি, ' আরে, এটা ব্যাপার না। প্রথম প্রথম এরকম হয়ই! আবার এসো, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।'

আমার  একটা অদ্ভুত ধরনের কাস্টমার আছে। প্রায় ছয় বছর ধরে তার আসা যাওয়া। অনেক শিক্ষিত। চাকুরী করে। আমাকে সে অনেকবার বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে।আমি রাজি হইনি।আমি জানি আবেগ আর বাস্তবতা এক না। ও বিবাহ করতো ঠিকই, আমাকে ভালোবাসতো, সম্মানও করতো কিন্তু সমাজের অন্যসব বাঁকা চাহনির লোকদের কারণে সে কখনোই সুখি হতে পারতোনা। তাছাড়া এ পেশার মেয়েরা সাধারণত সংসারী হতে পারেনা।কথায় বলেনা, 'ছাড়া গরু বান্দা পড়লে ঘরের ঘাস খায়না।' আমি তাকে সম্মান করি। তার ইচ্ছার গুরুত্ব দিই। সে আসে আগে থেকে ফোন দিয়ে, তার শর্ত একটাই, সেদিন কোন খদ্দেরের কাছে যাওয়া যাবেনা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে সাজ গোছ করে  বধুর বেশে থাকতে হবে। আমি তাই করি। এই কাজটা আমি ব্যবসার খাতিরে করিনা। কিছু কিছু কাজ ভালোলাগা  থেকেও করতে হয়। তার প্রতি আমার খানিকটা দুর্বলতা যে আছে সেটা পল্লীর খালাম্মাও জানে।

সে সৌখিন মানুষ। সে আমার সাথে সরাসরি সেক্স করতে আসেনা। ঘরে তার বউ থাকা সত্ত্বেও সে আসে আমার যোনি ও বগলের ঘ্রাণ নিতে। তাকে যে কতো বারণ করেছি এসব পাগলামি না করতে! ঘরে বউ রেখে আমার কাছে না আসতে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। মূলত এটা তার এক ধরনের নেশা। কিংবা আমার প্রতি তীব্র আসক্তি।সে বলে আমার বগলের ঘ্রাণ নাকি চমৎকার। আর যোনির আঁশটে সুবাস তো অতুলনীয়! কত নারীর কাছে যে গেছে এমন ঘ্রাণের খোঁজে! এমন মধুময়ী ঘ্রাণ নাকি পৃথিবীতে আর কোন নারীর কাছেই নেই। এমন পাগল পুরুষই পৃথিবীতে আর কয়টা আছে,বলুন?

 কতো ধরনের মানুষ যে আছে পৃথিবীতে! কেউ আসে চুমু খেতে, কেউ স্তন টিপতে,কেউ কেউ শুধু চুষতে আসবে আর কেউ মরে গেলে চুষবেনা,কেবল ঢুকাতে পারলেই বাঁচে। কেউ পাছা দিয়ে ঢুকানোর কাঙাল। কেউ শুধু যোনির রস খেয়েই চলে যাবে। কিছুকিছু  বর্ণনা তো উপরেও দিলাম।

সব মিলিয়ে আমি যথেষ্ট ভালো আছি। শরীরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টাকাও পেয়ে থাকি। আসল কথা হলো, পৃথিবীর সব পুরুষই যোনির কাঙাল।তাই নারীর প্রতি আমার একটাই আবদার, তোমরা যাই করো, অন্তত নিজের যোনির প্রতি সর্বদা সতর্ক থাকো।সব সময় নিজেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখো।স্বামীর চাহিদার প্রতি খেযাল রেখে তাকে নিজের কাছে আটকে রাখো।
              ********


প্রবন্ধ ও নিবন্ধ 


                মহাকাব‍্যে বর্ণিত পাঁচ সতী
                    মৃণাল বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

ভারতীয় পুরাণে পাঁচ জন সতীর উল্লেখ রয়েছে। বলা হয় গোটা পৃথিবীতে এঁদের থেকে পবিত্র নারী আর কেউ নেই। এই পাঁচ নারী হলেন অহল্যা, দ্রৌপদী, সীতা, তারা ও মন্দোদরী। তবে আর একটি মতে এঁদের মধ্যে স্থান রয়েছে কুন্তীরও।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই পাঁচ নারীর বিরুদ্ধে বতর্মান প্রথাগত ধারণায় চরিত্রে 'কলঙ্ক' লাগার অভিযোগ রয়েছে। তবু এঁরা সেই তথাকথিত 'কলঙ্ক' মুছে আপন গরিমায় উজ্জ্বল, পবিত্রতায় মহিমান্বিত। সেইসময়কার পুরুষ তান্ত্রিক যুগে এইসব নারী চরিত্রগুলোর সম্মন্ধে অধ‍্যয়ন করলে এদের মহৎ গুণগুলির পাশে কৃত অন‍্যান‍্য ঘটনাগুলোকে তুচ্ছ তাচ্ছিল‍্যই মনে হতে বাধ‍্য। কুন্তীর বিবাহিত স্বামী পান্ডু ঋষি কিন্দম -এর অভিশাপে সন্তান জন্ম দিতে ব‍্যর্থ। ফলে মুনি দুর্বাসাকে আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট করে তার কাছ থেকে পুত্র সন্তান লাভের কৌশল অর্জন করেন কারণ তিনি এক রাজবংশের মহিষী হতে চলেছেন। ফলে তার গর্ভে পুত্র সন্তান লাভ করাটা তার কাছে প্রথম এবং আবশ‍্যিক কর্তব‍্য বলে মনে হয়েছে রাজবংশটিকে টিকিয়ে রাখার জন‍্য। বিয়ের পূর্বে কর্ণের জন্মদানের ব‍্যাপারটাকে দুর্বাসা প্রদত্ত মন্ত্রের সত‍্যতা যাচাইয়ের একটা পদক্ষেপ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতেই পারে।
দ্রৌপদী তার স্বয়ংবর সভায় অনুষ্ঠিত শর্ত অনুযায়ী পরীক্ষায় স্বসন্মানে উত্তীর্ণ অর্জুনকেই বরমাল‍্য দান করেন। কিন্তু কুন্তীর বুঝতে ভুল হওয়ার দরুন মায়ের মুখের কথাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দ্রৌপদীকে পঞ্চপান্ডপকেই স্বামী হিসেবে মেনে নিতে হয়। এবং হিমাচল প্রদেশের বেশ কিছু পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ‍্যে এখনও জমি বন্টনকে আটকানোর জন‍্য একই পরিবারের একাধিক ভাইয়ের সাথে একজন নারীর বিবাহ একটি প্রচলিত সামাজিক নিয়মেরই অঙ্গ।
এবার আসা যাক এদের সংক্ষিপ্ত বিবরণে।
অহল‍্যা-
প্রজাপতি বহ্মার কন্যা ছিলেন অহল্যা। তাঁর সঙ্গে ঋষি গৌতমের বিয়ে হয়। অসামান্য রূপসী অহল্যার সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র। এমনকি দেবরাজ ইন্দ্রও অহল্যার রূপে মুগ্ধ হয়েছিলেন। একদিন গৌতমের অনুপস্থিতিতে ঋষির রূপ ধরে অহল্যার সঙ্গে মিলিত হন ইন্দ্র। তবে রামায়ণ অনুসারে ইন্দ্রকে চিনতে পেরেও নিজের নারীমনের কৌতুহলের কারণে তাঁকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি অহল্যা। ঋষি গৌতম সব জানতে পেরে অভিশাপ দিয়ে অহল্যাকে পাথর করে দেন। এই ভাবে বারো বছর কাটানোর পরে শ্রীরামের আশীর্বাদে আবার মানুষী রূপ ফিরে পান তিনি।
দ্রৌপদী -
মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র দ্রৌপদী। তিনি পাঞ্চাল রাজ দ্রুপদের কন্যা ছিলেন। যজ্ঞের আগুন থেকে তিনি উদ্ভূত বলে তাঁর আরেক নাম যাজ্ঞসেনী। স্বয়ম্বর সভায় তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনকে বরমাল্য দিলেও কুন্তীর নির্দেশে পাঁচ ভাইকেই বিয়ে করেছিলেন তিনি। দ্রৌপদীর তেজ, বুদ্ধি, সাহস ও নারীত্বের সম্মানবোধের পরিচয় বারবার পাওয়া গিয়েছে মহাভারতের পাতায়।
সীতা -
রাম-সীতার অমর কাহিনি আমাদের দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে। সীতাকে অপহরণ করে লংকা নিয়ে যান দশানন রাবণ। সমুদ্র পেরিয়ে লংকা গিয়ে রাবণকে বধ করে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন রাম। কিন্তু রাবণ যাঁকে একবার স্পর্শ করেছে, সেই নারী 'অসতী', এমনই অভিযোগ তোলে অযোধ্যাবাসী। প্রজাদের অভিযোগ দূর করতে সীতাকে বনবাসে পাঠান রাম। পরে একই অভিযোগ বারবার শুনতে শুনতে আত্মগ্লানিতে পাতাল প্রবেশ করেন সীতা।
তারা -
তারা ছিলেন বানররাজ বালির স্ত্রী। সুগ্রীবের সঙ্গে যুদ্ধে বালি নিহত হলে সুগ্রীবকেই বিয়ে করেন তিনি। তারা অত্যন্ত বিদূষী এক মহিলা ছিলেন। রামায়ণে নানা সময় বারবার তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।
মন্দোদরী -
তিনি ছিলেন রাবণের স্ত্রী। সীতাকে অপহরণ করায় বারবার তিনি স্বামীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। একটি মতে রাবণের মৃত্যু পর বিভীষণের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। এর আগে মন্দোদরী ছিলেন মধুরা নামের এক অপ্সরা। পার্বতীর অভিশাপে তিনি কুয়োর ব্যাং হিসেবে বারো বছর কাটিয়েছিলেন।
অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা ও মন্দোদরী এই পাঁচজনকে পঞ্চসতী না বলে অনেকে পঞ্চকন‍্যাও বলেন এরা বিবাহিতা হওয়া সত্বেও। তারা, অহল্যা ও মন্দোদরী রামায়ণের অন্তর্গত এবং কুন্তী ও দ্রৌপদী মহাভারত থেকে উল্লিখিত।
এই পঞ্চকন্যা নিয়ে শ্লোকটি হচ্ছে –
অহল্যা দ্রৌপদী কুন্তী তারা মন্দোদরী তথা।
পঞ্চকন্যা স্মরে নিত্যং মহাপাতক নাশনম্‌।।
যার অর্থ,  অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা ও মন্দোদরী - এই পঞ্চকন্যাকে নিত্য স্মরণ করলে মহাপাপগুলো দূরীভূত হয়।
হ্যাঁ, তাদের সাথে একাধিক পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের কথা রামায়ণ ও মহাভারতের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণে ভিন্ন ভিন্ন গল্পের আঙ্গিকে আমরা পেয়ে থাকি। তবে উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, একাধিক পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি দুইভাবে এসেছে,
একাধিক বিয়ের মাধ্যমে হয়েছে। যেমন- দ্রৌপদীর স্বামী ছিলেন পঞ্চপাণ্ডব, বালীর স্ত্রী তারা বালীর ভাই সুগ্রীবকে বিয়ে করেন, রাবণের স্ত্রী মন্দোদরী রাবণের ভাই বিভীষণকে বিয়ে করেন (বাল্মিকী রামায়ণে এমনটা বলা নেই, রামায়ণের ভিন্ন সংস্করণে এমনটা পাওয়া যায়)

কোন দেবতার সাথে বিবাহ বহির্ভুতভাবে হয়েছে। যেমন- ঋষি গৌতমের স্ত্রী অহল্যাকে দেবতা ইন্দ্র ঋষি গৌতমের ছদ্মবেশে এসে প্রলুব্ধ করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। অন্যদিকে, অবিবাহিতা কুন্তী ঋষি দূর্বাসার কাছ থেকে বর প্রাপ্ত হয়ে সূর্যদেবকে আহবান জানালে সূর্যদেব তার নাভিতে স্পর্শ করলে তিনি গর্ভবতী হলে ধনুর্বীর কর্ণের জন্ম হয়, যা গোপন থাকে। পরে কুন্তীর সাথে পাণ্ডুর বিয়ে হয়।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, তারপরও কেন তাদের নাম স্মরণীয়। মনে রাখতে হবে, মূলত কন্যা হিসাবে তাদের নির্দিষ্ট গুণাবলী রয়েছে, যা স্মরণীয়। তাদেরকে অন্ধের মত অনুসরণ করতে বলা হয় নি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গুণাবলী এখানে তুলে ধরছি-
অহল্যা- তিনি অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘকাল তপস্যা করেছেন। অর্থাৎ দীর্ঘকাল ধরে তপস্যা করার মত ধৈর্য্যশীলা তিনি ছিলেন।
দ্রৌপদী- দ্রৌপদী মহাভারতের প্রধান নারী চরিত্র। তিনি পঞ্চপান্ডবদের বিয়ে করেন। শর্ত থাকে যে, তিনি প্রতি বছর এক ভাইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করবেন ও তার সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। তিনি প্রত্যেক পাণ্ডবের পাঁচ পুত্রসন্তানের জননী হন ও প্রত্যেক বছর শেষে তার সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখেন। এভাবে তিনি তার স্বামীর প্রতি দেওয়া শর্ত রক্ষা করেন। অন্যদিকে, তার স্বামীগণ কৌরবদের সাথে পাশা খেলার সময় তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার তাদের ভর্ৎসনা করেন। অর্থাৎ স্বামীর অন্যায় আচরণকে তিনি মেনে নেন নি, বরং সর্বসম্মুখে তার প্রতিবাদ করেছেন।
কুন্তী- নকুল ও সহদেব কুন্তীর সতীন মাদ্রীর গর্ভে জন্মালেও কুন্তী তাদের আপনপুত্রর চাইতেও অধিক স্নেহ করতেন। অন্যদিকে, ভগবত পুরাণে কুন্তী ভাগ্নে কৃষ্ণের প্রতি ভক্তির যে দর্শন ব্যক্ত করেছেন তা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত।
তারা- তারার বুদ্ধিমত্তা, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, নির্ভীকতা এবং স্বামী বালীর প্রতি তার ভক্তি তাকে মহিমান্বিত করে। রামায়ণে তারাকে তার স্বামী বালীর দ্বারা তীব্র প্রণয়প্রাপ্ত ও সম্মানিত একজন নারী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বালীর প্রতি তাঁর পরামর্শে কখনও কখনও একটি আদেশের সুর থাকে। তারাকে "অস্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা ও আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন একজন নারী" হিসাবে বর্ণনা করেন।
মন্দোদরী- রামায়ণ-এ তাকে সুন্দরী, ধর্মপ্রাণা ও নীতিপরায়ণা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাবণের প্রতি মন্দোদরীর ভালবাসা ও আনুগত্যের প্রশংসা করা হয়েছে। স্বামীর দোষ সত্ত্বেও মন্দোদরী তাকে ভালবাসতেন এবং তাকে সত্যপথে চলার উপদেশ দিতেন। ধর্মপ্রাণা নারী হিসেবে মন্দোদরী রাবণকে সঠিক পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। 
                    ******

        আয়ুর্বেদ কালে-কালান্তরে
     ড. পিয়ালী ঘোষ, কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

'আয়ু' শব্দের অর্থ 'জীবন' এবং 'বেদ' শব্দের অর্থ 'জ্ঞান' বা 'বিদ্যা'। 'আয়ুর্বেদ' শব্দের অর্থ জীবনজ্ঞান বা জীববিদ্যা অর্থাৎ, যে জ্ঞানের মাধ্যমে জীবের কল্যাণ সাধন হয় তাকে 'আয়ুর্বেদ' বা 'জীববিদ্যা' বলা হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বলতে ভেষজ বা উদ্ভিদের মাধ্যমে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে বোঝানো হয়। এই চিকিৎসা ৫০০০ বছরের পুরাতন। পবিত্রাবেদ এর একটি ভাগ অথর্ববেদ- এর যে অংশে চিকিৎসা বিদ্যা বর্ণিত আছে তা-ই আয়ুর্বেদ।

আদি যুগে গাছপালার মাধ্যমেই মানুষের রোগের চিকিৎসা করা হতো। এই চিকিৎসা বর্তমানে 'হার্বাল চিকিৎসা' তথা Alternative Treatment নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলা দেশে, ভারতে, পাকিস্তানে এই চিকিৎসা বেশি প্রচলিত। পাশাপাশি উন্নত বিশ্বেরও এই চিকিৎসা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কারণ Modern Alopathy অনেক ওষুধেই side effect বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কিছু কিছু ঔষধ রোগ সারানোর পাশাপাশি মানব শরীরকে দুর্বল করে ফেলে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে যৌনক্ষমতা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ইতিহাস পাওয়া যায়। কিন্তু তবু দ্রুত আরোগ্যের জন্য মানুষ এগুলো ব্যবহার করে চলেছে।

আয়ুর্বেদের মতো মানব দেহের চারটি উপাদান হল- দোষ, ধাতু, মল এবং অগ্নি, আয়ুর্বেদে এগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এগুলিকে 'মূল সিদ্ধান্ত' বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল তত্ত্ব বলা হয়।

দোষ

দোষ এর তিনটি মৌলিক উপাদান হল বাত, পিত্ত এবং কফ। যেগুলি সব একসাথে শরীরের ক্যাটাবোলিক ও এ্যানাবোলিক রাসায়নিক বিক্রিয়া
সংক্রান্ত অবস্থায়, শ্বাস-প্রশ্বাস ও পাচন পক্রিয়ার অসুখে এই চিকিৎসা বিশেষ করে উপযোগী হয়।

শমন চিকিৎসা (প্রশমনকারী চিকিৎসা)

শমন চিকিৎসায় রোগে আক্রান্ত দোষগুলিকে দমন করা হয়। যে পদ্ধতিতে দূষিত 'দোষ' বা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট না করে পূর্ববস্থায় ফেরে তাকে শমন চিকিৎসা বলে।

পথ্য ব্যবস্থা

দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ক্রিয়াকর্ম, অভ্যাস ও আবেগজনিত অবস্থা সংক্রান্ত উচিত অনুচিত বিষয়ে ইঙ্গিত সমূহ পথ্য ব্যবস্থার অন্তর্গত।

নিদান পরিবর্জন (অসুখ হওয়া ও অসুখের বৃদ্ধিকারক কারণগুলি পরিবর্জন)

নিদান বর্জন হল শরীর রোগগ্রস্থ হওয়ার যেসব কারণসমূহ দৈনন্দিন খাদ্যাভাস ও জীবন-যাত্রায় বর্তমান, সেগুলির পরিহার।

সত্ববজায় (মানসিক রোগের চিকিৎসা)

সত্ববজায় প্রধানত; মানসিক অসুবিধায় বেশী কাজ করে। মনকে অস্বাস্থ্যকর বস্তুর কামনা থেকে মুক্ত রাখা সাহস, স্মৃতিশক্তি, বিদ্যা ও মনোবিজ্ঞানচর্চা অনেক বিশদভাবে আয়ুর্বেদে বর্ণিত আছে।

রসায়ণ চিকিৎসা

রসায়ণ চিকিৎসা মনবদেহে শক্তি ও প্রাণশক্তি আনয়নের চিকিৎসা, শারীরিক কাঠামোর দৃঢ়তা স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধি, বুদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা,
যৌবনজ্যোতি অক্ষুন্ন রাখা, এবং শরীর ও ইন্দ্রিয় সমূহে পূর্ণমাত্রায় শক্তি সংরক্ষণ রাসায়ণ চিকিৎসার অন্যতম উপকারিতা।

ইতিহাস

আধুনিক আয়ুর্বেদী উৎস অনুযায়ী আয়ুর্বেদ এর উৎস শনাক্ত করা যার প্রায় খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০০ অব্দে। আয়ুর্বেদের কিছু ধারণা সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদের প্রথম নথিবদ্ধ আকার বিবর্তিত হয় বেদ থেকে। বৈদিক পরম্পরায় আয়ুর্বেদ হচ্ছে একটি উপবেদ (সহায়ক জ্ঞান), অথর্ববেদে আয়ুর্বেদের উৎস পাওয়া যায়।

চরক সংহিতা

চরক সংহিতা হল ভারতীয় পরম্পরাগত ঔষধী ব্যবস্থা। আয়ুর্বেদ হল এক প্রাচীন গ্রন্থ। সুশ্রুত সংহিতার সাথে খ্রীষ্ট জন্মের কিছু শতক পরেই রচিত। চরক সংহিতার রচনাকাল গুপ্তযুগ বা ৩০০ থেকে ৫০০ খ্রীঃ এর বলে মনে করা হয়। বর্তমানে চরক সংহিতায় আটটি স্থান ও সর্বমোট ১২০টা অধ্যায় আছে-

১। সূত্রস্থান (৩০টা অধ্যায়)
২। নিদান স্থান (৮টা অধ্যায়)
৩। বিমান স্থান (৮টা অধ্যায়)
৪। শরীর স্থান (৮টা অধ্যায়)
৫। ইন্দ্রিয় স্থান (১২টা অধ্যায়)
৬। চিকিৎসা স্থান (৩০টা অধ্যায়)
৭। কল্প স্থান (১২টা অধ্যায়)
৮। সিদ্ধি স্থান (১২টা অধ্যায়)


উপসংহার

বিজ্ঞানের যুগে আমরা এই গাছের ব্যবহার কার্যকারীতা প্রায় ভুলতে বসেছি, কিন্তু এইগুলি যে কতটা মানবদেহের জন্য উপকারী, তা ব্যবহার না করতে বোঝা যায় না।

বিশেষত, হরিতকি, আমলকি, বহেরা এই তিনটিকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। এই ত্রিফলা সর্বরোগনাশক, আয়ুবর্ধক, বলবর্ধক, জীবনীশক্তিবর্ধক মহাঔষধ। এগুলিকে জানা একান্ত প্রয়োজন। বিজ্ঞানের যুগে আমরা আমাদের এই উপকারী ভেষজকে প্রায় ভুলতে বসেছি। ইহা আমাদের অজ্ঞতার ফল। এগুলিকে আমাদের নিত্যকার জীবনে সঙ্গী করা একান্ত প্রয়োজন; যার দ্বারা অর্থব্যয় হ্রাস পাবে এবং জন্মাবধি মৃত্যু পর্যন্ত আয়ুষ্কাল রোগমুক্ত বলবীর্য সম্পন্ন হবে এই ঔষধগুলি কেবলমাত্র শারীরিক দিক থেকেই কার্যকারী বা উপযোগী এমত নহে। ইহা মনের স্মৃতিশক্তির, মেধাশক্তির, বুদ্ধিশক্তির পরিপোষক এবং স্বাস্থ্যবর্ধক ও রক্ষক।
                  ******

Comments